a শবপোড়া
b শবদাহ
c মড়াদাহ
d শবমড়া
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) শবদাহ ১. কেন সঠিক: শবদাহ শব্দটিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটেছে, যা ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ শুদ্ধ। এখানে মৃতদেহ পোড়ানোর ক্ষেত্রে প্রমিত ও অভিধানসম্মত তৎসম শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে গুরুচণ্ডালী দোষ থেকে মুক্ত রয়েছে। ২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা: বাংলা ব্যাকরণে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের সঙ্গে দেশি বা বিদেশি শব্দের কিংবা তদ্ভব শব্দের অসামঞ্জস্যপূর্ণ মিশ্রণকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলা হয়। গুরুচণ্ডালী দোষ এড়াতে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ অথবা তৎসম ও অ-ত্সম শব্দের বেমানান জোড় এড়িয়ে চলতে হয়। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: সবান্ধব বনাম সলজ্জ ব্যাখ্যা: সলজ্জ বা সবান্ধব তৎসম শব্দের প্রমিত রূপ, যা গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত। উদাহরণ ২: মড়ার মাথা বনাম মুণ্ডু ব্যাখ্যা: মড়ার মাথা অপ্রমিত মিশ্রণ হলেও শবমুণ্ডু বা মৃতশির প্রমিত রূপ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) শবপোড়া — শব হলো তৎসম শব্দ আর পোড়া হলো তদ্ভব শব্দ, তাই এটি তৎসম ও তদ্ভব শব্দের মিশ্রণে গঠিত একটি গুরুচণ্ডালী দোষযুক্ত শব্দ। B) শবদাহ — এটি সম্পূর্ণ সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো গুরুচণ্ডালী দোষ নেই। C) মড়াদাহ — মড়া হলো তদ্ভব শব্দ এবং দাহ হলো তৎসম শব্দ, তাই তদ্ভব ও তৎসম শব্দের অসামঞ্জস্যপূর্ণ মিলনের কারণে এটি গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট। D) শবমড়া — শব এবং মড়া সমার্থক শব্দের দ্বিরুক্তি এবং মিশ্রণজনিত ত্রুটির কারণে এটি অগ্রহণযোগ্য ও ব্যাকরণসম্মত নয়। ৫. মনে রাখার টিপস: সংস্কৃত শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত শব্দ এবং বাংলা শব্দের সঙ্গে বাংলা শব্দ মিলিয়ে ব্যবহার করলে গুরুচণ্ডালী দোষ এড়ানো যায়। শব শব্দের সঙ্গে দাহ যুক্ত হয়ে তৎসম রূপ বজায় থাকে, কিন্তু পোড়া যুক্ত হলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই তৎসম শব্দের সঙ্গে তদ্ভব বা দেশি শব্দের মিশ্রণজনিত গুরুচণ্ডালী দোষ থেকে প্রশ্ন আসে। শবদাহ, ভোজন, শয়ন ইত্যাদি তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে সমার্থক দেশি শব্দ ব্যবহার না করে তৎসম শব্দই ব্যবহার করতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0