ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: D) লাল, আসমানী, সবুজ
১. কেন সঠিক:
- লাল, আসমানী বা সায়ান এবং সবুজ বর্ণকে আলোর প্রাথমিক বা মুখ্য বর্ণ বলা হয়।
- এই তিনটি বর্ণ নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশ্রিত করলে দৃশ্যমান আলোর অন্যান্য সব বর্ণ তৈরি করা সম্ভব।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: আলোর মুখ্য বর্ণ হলো এমন কিছু নির্দিষ্ট রঙের আলো যা অন্য কোনো রঙের মিশ্রণে তৈরি করা যায় না, কিন্তু এদের বিভিন্ন অনুপাতে মিশিয়ে অন্যান্য সব রঙ তৈরি করা যায়।
- কার্যপ্রণালি: আমাদের চোখের কোন কোষ এই তিনটি প্রাথমিক বর্ণের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল এবং মস্তিষ্ক এই সংকেতগুলোকে একসাথে করে রঙিন অনুভূতি তৈরি করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: রঙিন টেলিভিশন, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের স্ক্রিন বা ডিসপ্লেতে পিক্সেল হিসেবে লাল, সবুজ ও নীল বা আসমানী আলোর ক্ষুদ্র বিন্দু ব্যবহার করে সব ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রঙিন টেলিভিশন বা কম্পিউটারের মনিটর।
ব্যাখ্যা: একটি রঙিন ডিসপ্লের প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশে লাল, সবুজ ও আসমানী আলোর তীব্রতা পরিবর্তন করে লক্ষ লক্ষ ভিন্ন রঙ প্রদর্শন করা হয়।
উদাহরণ ২: থিয়েটার বা মঞ্চের রঙিন আলোকসজ্জা।
ব্যাখ্যা: মঞ্চে বিভিন্ন রঙের আলো তৈরি করতে লাল, সবুজ ও আসমানী বা নীল আলোর প্রজেক্টর একসাথে ব্যবহার করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লাল, হলুদ, সবুজ — হলুদ কোনো প্রাথমিক বর্ণ নয়, এটি লাল ও সবুজ আলোর মিশ্রণে তৈরি হয়।
B) লাল, কমলা, বেগুণী — কমলা ও বেগুনি বর্ণগুলো প্রাথমিক বর্ণ নয় এবং এগুলো অন্যান্য রঙের মিশ্রণে উৎপন্ন হয়।
C) হলুদ, সবুজ, নীল — এই অপশনে হলুদ ও নীল রঙের উপস্থিতি রয়েছে, যা আলোর ক্ষেত্রে সঠিক মুখ্য বর্ণ সেট গঠন করে না।
D) লাল, আসমানী, সবুজ — এটি আলোর তিনটি সঠিক মুখ্য বর্ণ নির্দেশ করে যা দিয়ে অন্য সব বর্ণ সৃষ্টি করা যায়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- আলোর মুখ্য বর্ণ মনে রাখার সহজ উপায় হলো রাআসব (লাল, আসমানী, সবুজ)।
- অন্যদিকে রঞ্জক পদার্থ বা রঙের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বর্ণগুলো আলাদা হয়, যা আলোর সাথে গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আলোর প্রাথমিক বর্ণ এবং রঞ্জক পদার্থের প্রাথমিক বর্ণ নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- মনে রাখতে হবে আলোর প্রাথমিক বর্ণ তিনটি, আর রঙের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বর্ণ হলো লাল, নীল ও হলুদ।