a জলধি
b হস্তী
c সন্দেশ
d বাঁশি
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: A) জলধি ১. কেন সঠিক: যোগরূঢ় শব্দ হলো সেই সমস্ত সাধিত শব্দ, যা সমাসবদ্ধ হয়ে কোনো নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ না করে প্রাকৃতিকভাবে পদের অবয়ব অর্থের বাইরে গিয়ে একটি বিশেষ বা নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। এখানে জলধি শব্দটির সাধারণ অর্থ জল ধারণ করে এমন যেকোনো বস্তু বা আধার, কিন্তু সমাসের নিয়মে এটি নির্দিষ্ট করে সমুদ্রকে বোঝায়। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: গঠনগত দিক থেকে বাংলা শব্দের শ্রেণিবিভাগ চার প্রকার, যথা মৌলিক, সাধিত, রূঢ় বা রূঢ়ি এবং যোগরূঢ় শব্দ। যোগরূঢ় শব্দ মূলত বহুব্রীহি বা অন্য কোনো সমাসের সাহায্যে গঠিত হয় কিন্তু অর্থ নির্ধারণের সময় তা সমসমান পদের literal অর্থ বজায় না রেখে একটি বিশেষ অর্থ গ্রহণ করে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: পঙ্কজ ব্যাখ্যা: পঙ্কে জন্মে যা, অর্থাৎ পঙ্কে উৎপন্ন যেকোনো কিছু বোঝাতে পারত, কিন্তু যোগরূঢ় নিয়মে এটি নির্দিষ্ট করে কেবল পদ্মফুলকে বোঝায়। উদাহরণ ২: রাজপুত ব্যাখ্যা: রাজার পুত্র যেকোনো রাজপুত্র হতে পারে, কিন্তু যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে এটি একটি নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়কে বোঝায়। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) জলধি — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি সমাস নিষ্পন্ন হয়ে বিশেষ অর্থ সমুদ্রকে প্রকাশ করে। B) হস্তী — এটি একটি রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ, যার উৎপত্তিগত অর্থ হাত আছে যার হলেও বর্তমানে এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট পশুকে বোঝায়। C) সন্দেশ — এটিও একটি রূঢ় শব্দ, যার সাধারণ অর্থ সংবাদ হলেও বর্তমানে এটি একটি মিষ্টি বিশেষকে বোঝায়। D) বাঁশি — এটি একটি মৌলিক শব্দ, যা কোনো সমাস বা প্রত্যয়ের সাহায্য ছাড়াই গঠিত হয়েছে এবং এর কোনো ভিন্ন বিশেষ অর্থ নেই। ৫. মনে রাখার টিপস: যোগরূঢ় শব্দ মনে রাখার সহজ কৌশল হলো জলধি, পঙ্কজ, মহাযাত্রা এবং রাজপুত এই কয়েকটি শব্দ ভালোভাবে আয়ত্ত করা কারণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাধারণত এর মধ্য থেকেই প্রশ্ন বেশি আসে। যেসব সমাসবদ্ধ শব্দ সাধারণ অর্থের বদলে একটি নির্দিষ্ট ঐতিহ্যগত বা বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের চোখ বুজে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে চিহ্নিত করবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: রূঢ়ি শব্দ এবং যোগরূঢ় শব্দের পার্থক্য প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে, তাই উৎপত্তিগত অর্থ এবং প্রচলিত অর্থের ব্যবধান ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হবে। এ ধরনের প্রশ্ন সমাধানের জন্য শব্দের ব্যুৎপত্তি এবং তার বর্তমান প্রচলিত প্রমিত অর্থ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0