a একাদশ (এক অধিক দশ)
b হাতাহাতি (হাতে হাতে যে যুদ্ধ)
c মানানের অভাব (বেমানান)
d দুখাতীত (দুঃখকে অতীত)
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) হাতাহাতি (হাতে হাতে যে যুদ্ধ) ১. কেন সঠিক: - যে সমাসে সমস্তপদের পূর্বপদ ও পরপদ কোনোটিরই অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় পদকে বোঝায় এবং ব্যাসবাক্যে 'ব্যিহারে' বা পারস্পরিক বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। - হাতাহাতি শব্দটিতে হাতে হাতে যে যুদ্ধ বোঝানো হয়েছে, যা দুটি হাতের পারস্পরিক বা ব্যতিহার ক্রিয়া প্রকাশ করে এবং এটি একটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসে একই পদের দ্বিরুক্তি ঘটে এবং মাঝখানে 'আ' বা 'ই' যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার পারস্পরিকতা বোঝায়। - এই সমাসের ব্যাসবাক্য সাধারণত 'পূর্বপদে এ বিভক্তি + পূর্বপদে এ বিভক্তি + যে + ক্রিয়াপদ' এভাবে গঠিত হয়। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: কানাকানি (কানে কানে যে কথা) ব্যাখ্যা: এটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কারণ এখানে দুটি কানের মাধ্যমে পারস্পরিক গোপন কথা বলার ভাব প্রকাশ পেয়েছে। উদাহরণ ২: চুলাচুলি (চুলে চুলে যে লড়াই) ব্যাখ্যা: এটিও ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের একটি চমৎকার উদাহরণ যেখানে চুলে চুল ধরে পারস্পরিক লড়াই বা ঝগড়া বোঝানো হয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) একাদশ (এক অধিক দশ) — এটি নিত্য সমাসের উদাহরণ কারণ এর কোনো ব্যাসবাক্য হয় না এবং পদগুলো নিত্যকাল সমাসবদ্ধ থাকে। B) হাতাহাতি (হাতে হাতে যে যুদ্ধ) — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং এটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের নিয়ম অনুযায়ী গঠিত হয়েছে। C) মানানের অভাব (বেমানান) — এটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ কারণ এখানে অভাব অর্থে 'বে' উপসর্গ যোগে অব্যয় পদ গঠিত হয়েছে। D) দুখাতীত (দুঃখকে অতীত) — এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কারণ এখানে কর্মকারকে 'কে' বিভক্তি লোপ পেয়ে সমাস হয়েছে। ৫ মনে রাখার টিপস: - পারস্পরিক বোঝাপড়া, মারামারি, কথা কাটাকাটি বা গলাগলি জাতীয় শব্দ দেখলে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস হিসেবে চিহ্নিত করবে। - শব্দের মাঝে আ বা ই ধ্বনি এবং একই শব্দের পুনরাবৃত্তি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের প্রধান চাবিকাঠি। ৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় হাতাহাতি, কানাকানি, গালাগালি জাতীয় শব্দগুলো প্রায়ই ব্যতিহার বহুব্রীহি হিসেবে আসে। - নিত্য সমাস ও অব্যয়ীভাব সমাসের পার্থক্য ভালো করে পড়লে এই ধরনের প্রশ্ন ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0