a গৌড় অঞ্চলের মুখের ভাষা
b গৌড় সাহিত্যের স্বাভাবিক রীতি
c গৌড় ভাষার লিখিত নমুনা
d গৌড় ভাষার বিকৃত উচ্চারণ
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: A) গৌড় অঞ্চলের মুখের ভাষা ১. কেন সঠিক: গৌড়ী প্রাকৃত বলতে প্রাচীনকালে বাংলা অঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড অর্থাৎ গৌড় অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন কথ্য ভাষাকে বোঝানো হয়েছে। এটি প্রাকৃত ভাষার একটি স্তর যা পরবর্তী সময়ে বিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষার জন্ম দিয়েছে। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষার উৎপত্তির ইতিহাসে প্রাকৃত ভাষার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ডক্টর সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা এবং সেখান থেকে অপভ্রংশ হয়ে প্রাকৃত রূপ লাভ করে বাংলা ভাষার সৃষ্টি হয়েছে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: মাগধী প্রাকৃত ব্যাখ্যা: এটি প্রাচীন ভারতের পূর্বাঞ্চলে প্রচলিত প্রাকৃত ভাষা যার একটি শাখা হিসেবে গৌড়ী প্রাকৃতের বিকাশ ঘটেছিল। উদাহরণ ২: সৌরসেনী প্রাকৃত ব্যাখ্যা: এটি প্রাচীন ভারতের মধ্য অঞ্চলে প্রচলিত অপর একটি প্রধান প্রাকৃত ভাষা যা গৌড়ী প্রাকৃত থেকে আলাদা। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) গৌড় অঞ্চলের মুখের ভাষা — এই অপশনটি সঠিক কারণ গৌড়ী প্রাকৃত মূলত গৌড় অঞ্চলের মানুষের কথ্য রূপ ছিল। B) গৌড় সাহিত্যের স্বাভাবিক রীতি — এই অপশনটি ভুল কারণ এটি কোনো সাহিত্যিক রীতি ছিল না, বরং এটি ছিল মানুষের মুখের ভাষা। C) গৌড় ভাষার লিখিত নমুনা — এই অপশনটি ভুল কারণ প্রাকৃত ভাষা প্রধানত কথ্য রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হতো, লিখিত সাহিত্যিক রূপ হিসেবে নয়। D) গৌড় ভাষার বিকৃত উচ্চারণ — এই অপশনটি ভুল কারণ প্রাকৃত ভাষা কোনো ভাষার বিকৃত রূপ নয়, বরং এটি ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের একটি স্তর। ৫ মনে রাখার টিপস: প্রাকৃত ভাষার নামের সঙ্গে অঞ্চলের নাম যুক্ত থাকে। যেমন গৌড়ী প্রাকৃত অর্থ গৌড় অঞ্চলের ভাষা। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ অধ্যায়ের জন্য প্রাকৃত ও অপভ্রংশ ভাষার স্তরগুলো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0