a তৎসম শব্দ
b অর্ধ তৎসম শব্দ
c তদ্ভব শব্দ
d দেশি শব্দ
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) তদ্ভব শব্দ ১. কেন সঠিক: - তদ্ভব শব্দের অর্থ হলো তা থেকে ভব বা উৎপন্ন। যে শব্দগুলোর উৎস সংস্কৃত ভাষা এবং প্রাকৃত বা অপভ্রংশের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে, সেগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দ বলা হয়। - ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার মৌলিক ও খাঁটি শব্দ হলো তদ্ভব শব্দ। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - উৎসের ভিত্তিতে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে মূলত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দ। - তদ্ভব শব্দ গঠনের ক্রমটি হলো সংস্কৃত শব্দ প্রথমে প্রাকৃত ভাষায় পরিবর্তিত হয় এবং পরবর্তীতে তা পরিবর্তিত হয়ে তদ্ভব শব্দে রূপ নেয়। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: হস্ত > হাত ব্যাখ্যা: এখানে সংস্কৃত হস্ত শব্দ প্রাকৃত হয়ে পরবর্তীতে বাংলা হাত শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে। উদাহরণ ২: চন্দ্র > চাঁদ ব্যাখ্যা: এখানে সংস্কৃত চন্দ্র শব্দ প্রাকৃত হয়ে পরবর্তীতে বাংলা চাঁদ শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) তৎসম শব্দ — এই শব্দগুলো সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে এবং এগুলো খাঁটি বাংলা শব্দ নয়। B) অর্ধ তৎসম শব্দ — এই শব্দগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে সামান্য পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় প্রবেশ করেছে কিন্তু এগুলোকে খাঁটি বাংলা বলা হয় না। D) দেশি শব্দ — এই শব্দগুলো বাংলাদেশের আদিবাসীদের ভাষা থেকে এসেছে, যদিও এগুলো মৌলিক শব্দ তবে ব্যাকরণে এদের খাঁটি বাংলা বলা হয় না। ৫. মনে রাখার টিপস: - তদ্ভব মানে বাংলা ভাষার নিজস্ব বা খাঁটি সম্পদ। সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত হয়ে বাংলায় আসা শব্দই হলো তদ্ভব। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই শব্দতত্ত্ব থেকে প্রশ্ন আসে। তদ্ভব শব্দকে বাংলা ভাষার প্রাণ বা মূল ভিত্তি বলা হয়।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0