a একগুচ্ছ ধর্মোপদেশ
b সাধন সংগীত
c জীবনাচরণ পদ্ধতি
d নীতিপ্রথা
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) সাধন সংগীত ১. কেন সঠিক: চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষার প্রাচীনতম পদ সংকলন যা মূলত বজ্রযান বা সহজযান বৌদ্ধ সাধকদের গুহ্য সাধনার গান। এই পদগুলোতে রূপকের মাধ্যমে সাধনার তত্ত্ব, শূন্যবাদ ও নির্বাণ লাভের উপায় প্রকাশ করা হয়েছে বলে একে সাধন সংগীত বলা হয়। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র প্রামাণ্য নিদর্শন যা ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে আবিষ্কার করেন। ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে প্রকাশিত ওডিবিএল গ্রন্থে এর ভাষা ও উৎপত্তি বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বাংলা। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: সবুাজে সাবাজে বাড়ে রে কাহি (চর্যাপদের তান্ত্রিক ও সাধনসংগীতমূলক পদের একটি পংক্তি)। ব্যাখ্যা: এটি চর্যাপদের সাধন পদ্ধতির রূপকধর্মী অভিব্যক্তি যেখানে তান্ত্রিক সাধনার কথা বলা হয়েছে। উদাহরণ ২: কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল (কান্নপার রচিত চর্যাপদের একটি বিখ্যাত পদ)। ব্যাখ্যা: এই পদে মানুষের শরীরকে গাছের সঙ্গে তুলনা করে পাঁচটি ইন্দ্রিয়কে ডাল হিসেবে দেখিয়ে আধ্যাত্মিক সাধনার রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) একগুচ্ছ ধর্মোপদেশ — চর্যাপদ সরাসরি কোনো সাধারণ ধর্মোপদেশ বা নীতিবাক্য নয়, বরং এটি বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের অন্তর্নিহিত সাধনার গান। B) সাধন সংগীত — সঠিক উত্তর, কারণ চর্যাপদের পদগুলো গান বা গীতিধর্মী এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল তান্ত্রিক সাধনা প্রকাশ করা। C) জীবনাচরণ পদ্ধতি — এটি কোনো জীবনযাপনের সাধারণ সমাজবিধি বা রীতিনীতি নয়, বরং এটি বিশেষ এক আধ্যাত্মিক সাধনার দর্শন। D) নীতিপ্রথা — চর্যাপদ সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় কোনো নীতিপ্রথার সংকলন নয়, এটি একান্তভাবেই বৌদ্ধ ধর্মাচরণের সাধন সংগীত। ৫. মনে রাখার টিপস: চর্যাপদ মানেই গান বা সংগীত, তাই এটি একধরণের সাধন সংগীত হিসেবে পরিচিত। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী একে গানের সংকলন হিসেবেই আবিষ্কার করেছিলেন। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: চর্যাপদের পদকর্তা বা পদ রচয়িতা মোট ২৪ জন মতান্তরে ২৩ জন এবং এর আবিষ্কারক মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই চর্যাপদের আবিষ্কারক, প্রাপ্ত পদসংখ্যা এবং এর সাহিত্যরূপ সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0