প্রশ্নের বর্ণনা

a ধর্ম
b জন্মা-মৃত্যু
c অশিক্ষা
d নিরক্ষরতা
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: A) ধর্ম ১. কেন সঠিক: - সঠিক উত্তরের মূল কারণ হলো সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত লালসালু উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ মহব্বতনগর গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে ধর্মীয় অনুভূতি বা অন্ধবিশ্বাসের ভয়ে সচেতন ও ভীত করে তোলে। - মজিদ ভালো করেই জানতো যে ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং খোদার আযাবের ভয় দেখালে এই অঞ্চলের মানুষকে সহজেই নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং তার প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ বাংলা উপন্যাসের ধারায় এক অনন্য সংযোজন যার লালসালু উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি মূলত গ্রামীণ সমাজজীবনের অন্ধত্ব ও কুসংস্কারের এক মাস্টারপিস দলিল। - উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ মূলত পেটের টানে মহব্বতনগর গ্রামে এসে মোদাচ্ছের পীরের মাজারের মিথ তৈরি করে এবং ধর্মের নাম ভাঙিয়ে গ্রামের মানুষদের শোষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ মজিদের কথামতো পীরের মাজারের নামে ধান ও টাকা দিতো। ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে মজিদ কীভাবে ধর্মকে পুঁজি করে গ্রামবাসীকে নিয়ন্ত্রণ করতো। উদাহরণ ২: খালেক ব্যাপারীর স্ত্রীর সন্তান না হওয়ায় মজিদ তাকে নানা ধর্মীয় অনুশাসন ও মানতের কথা বলতো। ব্যাখ্যা: এর মাধ্যমে মজিদ মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ধর্মীয় জুজু দেখিয়ে নিজের আধিপত্য পাকা করতো। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) ধর্ম — এটি সঠিক কারণ মজিদ মূলত ধর্মীয় ভয়ভীতি দেখিয়েই গ্রামবাসীকে সচেতন ও নিয়ন্ত্রণে রাখতো। B) জন্মা-মৃত্যু — জন্মা-মৃত্যু প্রাকৃতিক ও জৈবিক প্রক্রিয়া এবং উপন্যাসটিতে এটি মূল আলোচ্য বিষয় নয়। C) অশিক্ষা — গ্রামবাসীরা অশিক্ষিত হলেও মজিদ তাদের অশিক্ষা দূর করার জন্য কোনো সচেতনতা তৈরি করেনি বরং তাদের অজ্ঞতাকে সে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। D) নিরক্ষরতা — নিরক্ষরতা দূর করা মজিদের উদ্দেশ্য ছিল না কারণ অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষকেই সে ধর্মের নামে সহজেই বোকা বানাতে পেরেছিল। ৫ মনে রাখার টিপস: লালসালু উপন্যাসের মজিদ চরিত্রটি মনে রাখার জন্য মাথায় রাখতে হবে যে সে ধর্মীয় কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে মহব্বতনগর গ্রামে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। সাহিত্যের চরিত্রভিত্তিক প্রশ্নে লেখকের মূল উদ্দেশ্য এবং চরিত্রের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে সঠিক উত্তর খুব সহজেই মনে রাখা যায়। ৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: লালসালু উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এবং এটি বাংলা সাহিত্যের একটি সমাজবিশ্লেষণমূলক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় চরিত্রভিত্তিক প্রশ্ন আসলে চরিত্রের মূল চালিকাশক্তি বা মোটিভ কী ছিল তা চিহ্নিত করতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0