প্রশ্নের বর্ণনা

a সেই মানুষেরা সবচেয়ে ভালো
b সন্ধ্যা পাখিদের নীড়ে ফেরার সময়
c সেইসব ছাত্রছাত্রীরা ভবিষ্যতে ভালো করে
d পাহাড়ের মতো মেঘরাশি আকাশে ভাসে
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সেইসব ছাত্রছাত্রীরা ভবিষ্যতে ভালো করে ১. কেন সঠিক: - এই বাক্যে বাহুল্যদোষ বা পুনরুক্তি ঘটেছে কারণ 'সেইসব' বহুবচন নির্দেশক এবং 'ছাত্রছাত্রীরা' পদেও বহুবচন যুক্ত রয়েছে। - একটি পদে বহুবচন থাকলে অন্য পদে পুনরায় বহুবচন ব্যবহার করা বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী বাহুল্য বা অশুদ্ধ বলে গণ্য হয়। ২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা: - বাংলা ব্যাকরণের বাক্যশুদ্ধি অধ্যায়ে বাহুল্যদোষ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে একই অর্থে একাধিক শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ। - বচন গঠনে বিশেষ্য পদের সঙ্গে বহুবচন বোধক শব্দ বা প্রত্যয় একবারই ব্যবহার করতে হয়, যেমন সব ছাত্রছাত্রী বা ছাত্রছাত্রীরা শুদ্ধ। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: সব মানুষেরা মরণশীল। ব্যাখ্যা: এখানে 'সব' এবং 'মানুষেরা' উভয়ই বহুবচন হওয়ায় এটি বাহুল্যযুক্ত বাক্য, যার শুদ্ধ রূপ হলো সব মানুষ মরণশীল। উদাহরণ ২: দেশের সকল জনতা আজ ঐক্যবদ্ধ। ব্যাখ্যা: 'সকল' এবং 'জনতা' একসঙ্গে ব্যবহার করায় বাহুল্য হয়েছে, কারণ জনতা শব্দ নিজেই সমষ্টিবাচক। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) সেই মানুষেরা সবচেয়ে ভালো — এই বাক্যে 'সেই' নির্দেশক এবং 'মানুষেরা' বহুবচন হলেও এটি কোনো বাহুল্যদোষ সৃষ্টি করেনি। B) সন্ধ্যা পাখিদের নীড়ে ফেরার সময় — এটি একটি স্বাভাবিক এবং অর্থপূর্ণ বাক্য যেখানে কোনো অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় শব্দ নেই। C) সেইসব ছাত্রছাত্রীরা ভবিষ্যতে ভালো করে — এটি সঠিক উত্তর কারণ এখানে 'সেইসব' ও 'ছাত্রছাত্রীরা' উভয় পদের মাধ্যমে একই সঙ্গে দ্বিগুণ বহুবচন প্রকাশ পেয়েছে। D) পাহাড়ের মতো মেঘরাশি আকাশে ভাসে — এই বাক্যে 'মেঘরাশি' হলো মেঘের সমষ্টি, যা একটি প্রমিত ও কাব্যিক গঠন। ৫. মনে রাখার টিপস: - বাক্যে বহুবচন ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখবে যেন একটি বাক্যে দুবার বহুবচন বা সমষ্টিবাচক শব্দ একসঙ্গে না বসে। - সব, সকল, সমস্ত এর পর বিশেষ্য পদে পুনরায় বহুবচন বিভক্তি (েরা, রা, গুলি) যুক্ত করা থেকে বিরত থাকবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বহুবচন জনিত বাহুল্যদোষ বা পদের প্রয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে। - ব্যাকরণের নিয়ম ভালোভাবে আয়ত্ত করলে এই ধরনের বাক্যশুদ্ধি সহজেই সমাধান করা সম্ভব।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0