প্রশ্নের বর্ণনা

a তদ্ভব
b অর্ধ-তৎসম
c দেশি
d বিদেশি
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) দেশি ১. কেন সঠিক: - 'চুলা' শব্দটি দেশি শব্দের অন্তর্ভুক্ত। আদি বাঙালি জাতি বা ভারতের প্রাক-আর্য জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় সরাসরি যে শব্দগুলো এসেছে, সেগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। - দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ব্যবহার্য বস্তু, যেমন রান্নার চুলা বোঝাতে এই শব্দটি যুগ যুগ ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - উৎসের দিক থেকে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে মূলত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি এবং বিদেশি শব্দ। - কোল, মুণ্ডারি, দ্রাবিড় বা অন্যান্য আদি অস্ট্রিক ভাষার যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় অপরিবর্তিত বা সামান্য পরিবর্তিত হয়ে গৃহিত হয়েছে, সেগুলোকে দেশি শব্দ বলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: কুলা ব্যাখ্যা: ধান বা শস্য পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত এই বাসক বা বাঁশের তৈরি তৈজসপত্রটি একটি দেশি শব্দ। উদাহরণ ২: ঢেঁকি ব্যাখ্যা: ধান ভানার ঐতিহ্যবাহী কাঠের তৈরি এই যন্ত্রটিও বাংলা ভাষার একটি মৌলিক দেশি শব্দ। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) তদ্ভব — তদ্ভব শব্দ হলো প্রাকৃত বা অপভ্রংশ থেকে পরিবর্তিত হয়ে আসা শব্দ, যেমন হস্ত থেকে হাত, যা চুলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। B) অর্ধ-তৎসম — অর্ধ-তৎসম শব্দ হলো সংস্কৃত থেকে কিছু বিকৃত হয়ে প্রাত্যহিক ভাষায় প্রচলিত শব্দ, যেমন জোছনা, যা চুলার উৎস নয়। D) বিদেশি — বিদেশি শব্দ হলো আরবি, ফারসি, ইংরেজি বা পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ, কিন্তু চুলা কোনো বিদেশি ভাষা থেকে আসেনি। ৫. মনে রাখার টিপস: - আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রাচীন ও দেশীয় জিনিসপত্র যেমন চুলা, কুলা, ঢেঁকি, গঞ্জ, টোপর ইত্যাদি সাধারণত দেশি শব্দ হয়। - গৃহস্থালির আদিম উপকরণের নাম দেখলেই দেশি শব্দ হিসেবে অনুমান করা যায়। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই দেশি শব্দ থেকে প্রশ্ন আসে। - কুলা, চুলা, ঢেঁকি, পেট, ঝিঙে, চোঙা ইত্যাদি শব্দ বারবার পরীক্ষায় আসে, তাই এগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0