প্রশ্নের বর্ণনা

a আজি > আইজ
b কান্না > কাঁদনা
c রিকশা > রিশকা
d তৎজন্য > তজ্জন্য
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) কান্না > কাঁদনা ১. কেন সঠিক: প্রদত্ত প্রশ্নে কান্না থেকে কাঁদনা শব্দটি প্রগত সমীভবনের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সমীভবন হলো দুটি ভিন্ন ধ্বনির প্রভাবে একটি ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে দুটি ধ্বনির একে অপরের সমতা লাভ করা। এখানে কান্না শব্দের 'ন' ধ্বনি পূর্ববর্তী 'দ' ধ্বনির প্রভাবে পরিবর্তিত হয়ে পুনরায় 'দ' বা কাছাকাছি রূপ লাভ করেছে, যা প্রগত সমীভবনের নিয়মকে নির্দেশ করে। ২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা: সমীভবন হলো দুটি ভিন্ন ধ্বনির একে অপরের প্রভাবে সমান বা সদৃশ হওয়ার প্রক্রিয়া। এটি মূলত তিন প্রকার যথা প্রগত, পরাগত ও অন্যান্যোন্য সমীভবন। প্রগত সমীভবনে পূর্ববর্তী ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ আগের ধ্বনির প্রভাবে পরের ধ্বনিটি আগের ধ্বনির মতো হয়ে যায়। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: পদ্ম > পদ্দ ব্যাখ্যা: এখানে দ ধ্বনির প্রভাবে ধ ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে দ ধ্বনিতে পরিণত হয়েছে। এটি প্রগত সমীভবনের একটি চমৎকার উদাহরণ। উদাহরণ ২: চক্র > চক্কর ব্যাখ্যা: এখানে ক ধ্বনির প্রভাবে র ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ক ধ্বনিতে রূপ নেয়। এটিও প্রগত সমীভবনের নিয়মে সাধিত হয়। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) আজি > আইজ — এটি সমীভবন নয় বরং অসমীকরণ বা বিপর্যাসের একটি রূপ। এখানে ধ্বনির অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে। B) কান্না > কাঁদনা — এটি প্রগত সমীভবনের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পূর্ববর্তী ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়েছে। C) রিকশা > রিশকা — এটি ধ্বনি বিপর্যয় বা বর্ণ বিপর্ষয়ের উদাহরণ। এখানে শব্দের ভেতরের দুটি বর্ণ নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। D) তৎজন্য > তজ্জন্য — এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। এখানে ত বা দ এর পরে জ থাকলে ত বা দ স্থানে জ হয়। ৫ মনে রাখার টিপস: প্রগত সমীভবন মনে রাখার সহজ কৌশল হলো প্রথম ধ্বনি শক্তিশালী থেকে পরের ধ্বনিকে নিজের মতো করে নেয়। অর্থাৎ প্রগত অর্থ আগের প্রভাবে পরের পরিবর্তন। ৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সমীভবনের প্রকারভেদ প্রায়ই আসে। তাই প্রগত ও পরাগত সমীভবনের পার্থক্য ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0