প্রশ্নের বর্ণনা

a আঞ্চলিক ভাষা
b উর্দু ভাষা
c সংস্কৃত ভাষা
d হিন্দি ভাষা
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সংস্কৃত ভাষা ১. কেন সঠিক: সাধুরীতি হলো বাংলা গদ্যরীতির একটি ঐতিহ্যবাহী ও মান্য রূপ যা তৎসম বা সংস্কৃত শব্দবহুল। উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পন্ডিতগণ বাংলা গদ্যের ভিত্তি স্থাপনের সময় সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম ও শব্দভান্ডার সরাসরি অনুসরণ করেন। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষার ইতিহাস ও বিবর্তনে সাধুপ্রথা মূলত সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণগত কাঠামো এবং তৎসম শব্দের অনুকরণে গড়ে উঠেছে। এই রীতিতে ক্রিয়াপদের রূপ ও সর্বনাম পদ পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে এবং এর শব্দচয়ন মূলত সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত তৎসম শব্দের ওপর নির্ভরশীল। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: তাহারা কাজটি করিয়া রাখিল। ব্যাখ্যা: এই বাক্যে ব্যবহৃত তাহারা সর্বনাম এবং করিয়া ও রাখিল ক্রিয়াপদগুলো সংস্কৃত ব্যাকরণ ও সাধুরীতির নিয়ম অনুসারে পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করেছে। উদাহরণ ২: গঙ্গার বারি অত্যন্ত শীতল। ব্যাখ্যা: এই বাক্যে বারি শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি আগত তৎসম শব্দ যা সাধুরীতির শব্দব্যবহারের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) আঞ্চলিক ভাষা — আঞ্চলিক ভাষা হলো কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষের কথ্য রূপ, যা থেকে সাধুরীতির সৃষ্টি হয়নি বরং এটি মূলত পরিশীলিত লিখিত রূপ। B) উর্দু ভাষা — উর্দু ভাষা মূলত ফার্সি ও আরবি শব্দসমৃদ্ধ একটি ভিন্ন ভাষার শাখা যার সঙ্গে বাংলা সাধুরীতির গঠনগত কোনো সম্পর্ক নেই। C) সংস্কৃত ভাষা — এই অপশনটি সঠিক কারণ সাধুরীতির ব্যাকরণ ও শব্দভান্ডার সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি প্রভাবিত ও আগত। D) হিন্দি ভাষা — হিন্দি ভাষা একটি আলাদা ইন্দো-আর্য ভাষা যা বাংলা সাধুরীতির উৎপত্তির উৎস হিসেবে কাজ করেনি। ৫. মনে রাখার টিপস: সাধু মানেই সাধু ভাষা আর সাধু ভাষা মানেই তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের আধিক্য। গদ্যের শুরুতে পন্ডিতরা সংস্কৃতের অনুকরণ করায় সাধুরীতি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে বলে ধরে নেওয়া হয়। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: বাংলা গদ্যরীতির ইতিহাস থেকে বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই সাধু ও চলিত রীতি সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে। সাধুরীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তৎসম শব্দের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের পূর্ণাঙ্গ রূপ।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0