প্রশ্নের বর্ণনা

a মীর মশাররফ হোসেন
b দীনবন্ধু মিত্র
c রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
d মুনীর চৌধুরী
0 12 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) দীনবন্ধু মিত্র ১. কেন সঠিক: দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'নীলদর্পণ' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক। এই নাটকে উনিশ শতকের মধ্যভাগে বাংলার নীলকর সাহেবদের দ্বারা সাধারণ কৃষকদের ওপর চালিত নির্মম নির্যাতন ও শোষণ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালে নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি মূলত নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই নাটক রচনা করেন। ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত এই নাটকটি বাংলা নাট্যসাহিত্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার এক অনন্য দলিল হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক 'নীলদর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদ। ব্যাখ্যা: নাটকটির আন্তর্জাতিক প্রচার ও নীলকরদের অত্যাচারের কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে মধুসূদন দত্ত এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন। উদাহরণ ২: গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক। ব্যাখ্যা: এটিও বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নাটক যা তৎকালীন সমাজ ও রাজনীতির প্রতিচ্ছবি। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) মীর মশাররফ হোসেন — তিনি বিখ্যাত ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার হলেও তার 'বিষাদসিন্ধু' বা 'জমিনদার দর্পণ' পরে রচিত এবং এটি প্রথম আর্থ-সামাজিক নাটক নয়। B) দীনবন্ধু মিত্র — এটি সঠিক উত্তর। C) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বকালের সেরা কবি ও নাট্যকার হলেও তিনি মূলত কাব্যনাট্য ও রূপকধর্মী নাটক বেশি লিখেছেন। D) মুনীর চৌধুরী — তিনি আধুনিক যুগের নাট্যকার ও ভাষাসৈনিক যিনি নাট্যকার হিসেবে পরিচিত হলেও প্রথম আর্থ-সামাজিক নাটকের রচয়িতা নন। ৫. মনে রাখার টিপস: বাংলার নীল চাষীদের দুর্দশা ও রাজনীতি মনে রাখতে প্রথম আর্থ-সামাজিক নাটকের কথা উঠলেই দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নামটি সবার আগে মনে রাখবে। নাটকের নাম আর লেখকের নাম জোড়বদ্ধভাবে মনে রাখার জন্য এটি একটি দুর্দান্ত কৌশল। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: নীলদর্পণ নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয় এবং এর ইংরেজি অনুবাদ কে করেছিলেন, তা বিসিএস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই রকম অন্যান্য সামাজিক নাটকের ইতিহাস পড়ার সময় রচয়িতা ও প্রকাশকাল ভালোভাবে লক্ষ্য রাখবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0