প্রশ্নের বর্ণনা

a সংবাদ প্রভাকর
b বঙ্গদশর্খন
c সবুজপত্র
d কালি ও কলম
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সবুজপত্র ১. কেন সঠিক: বাংলা সাহিত্যে সাধু রীতির কৃত্রিমতা ও কাঠিন্য দূর করে চলিত রীতিকে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে 'সবুজপত্র' পত্রিকার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে অগ্রণী ও ঐতিহাসিক। ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় এই পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা গদ্যে চলিত ভাষার সার্থক ও সফল ব্যবহার শুরু হয়। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: 'সবুজপত্র' বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী মাসিক পত্রিকা যা ১৯১৪ সালের মে মাসে প্রথম প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকার মূল চালিকাশক্তি ছিলেন প্রমথ চৌধুরী যিনি বীরবল ছদ্মনামে লিখতেন এবং এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী বা চলিত গদ্যরীতির সূত্রপাত ঘটে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: বীরবল ছদ্মনামে প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ গ্রন্থ 'বীরবলের হালখাতা'। ব্যাখ্যা: এটি চলিত রীতির গদ্যে রচিত একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থ যা সবুজপত্র আন্দোলনের একটি অন্যতম প্রধান ফসল। উদাহরণ ২: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস 'চতুরঙ্গ'। ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'সবুজপত্র' পত্রিকায় এই উপন্যাসটি লিখে চলিত রীতির সার্থক প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) সংবাদ প্রভাকর — এটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় ১৮৩১ সালে প্রকাশিত একটি প্রাচীন সংবাদপত্র যা মূলত সেকালের সমাজ ও সাহিত্য চর্চায় ভূমিকা রেখেছিল কিন্তু চলিত রীতি প্রচলনে অগ্রণী নয়। B) বঙ্গদর্শন — এটি ব্যাংকিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি সাধু ভাষার উৎকর্ষ সাধনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। D) কালি ও কলম — এটি আধুনিককালের একটি সাহিত্য বিষয়ক লিটল ম্যাগাজিন যা বহু পরে প্রকাশিত হয় এবং এর সঙ্গে চলিত রীতি প্রবর্তনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক নেই। ৫ মনে রাখার টিপস: চল মানে চলা আর সবুজ মানে সতেজ, তাই সতেজ চলিত ভাষার বাহন হলো সবুজপত্র পত্রিকা। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্র পত্রিকা মনে রাখলেই চলিত রীতির ইতিহাস পরিষ্কার হয়ে যায়। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: সবুজপত্র পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে এবং এর সম্পাদক প্রমথ চৌধুরী। পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে চলিত রীতির প্রবক্তা কে, যার উত্তর প্রমথ চৌধুরী।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0