প্রশ্নের বর্ণনা

a নীতিহীন
b নিষ্ঠুর
c কঠোর
d অত্যাচারী
0 12 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) নিষ্ঠুর ১. কেন সঠিক: 'মাছের মা' একটি অত্যন্ত পরিচিত বাংলা বাগধারা, যার আক্ষরিক অর্থ মাছের জননী হলেও এর প্রচলিত ভাবার্থ হলো নিষ্ঠুর বা হৃদয়হীন ব্যক্তি। মাছ তার নিজের ডিম নিজেই খেয়ে ফেলে, তাই প্রবাদ বা লোকবিশ্বাসে মাছকে নির্মম বা নিষ্ঠুর হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সেখান থেকেই এই বাগধারাটির উৎপত্তি হয়েছে। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: বাগধারা হলো এমন কিছু শব্দসমষ্টি যা তাদের আক্ষরিক বা সাধারণ অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ ও ভাবার্থ প্রকাশ করে থাকে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে প্রবাদ-প্রবচন এবং বাগধারা ভাষার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং মনের ভাবকে অত্যন্ত সংক্ষেপে ও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: সমাজের অসৎ লোকদের থেকে দূরে থাকাই ভালো, কারণ এরা সুযোগ পেলে মাছের মার মতো আচরণ করে। ব্যাখ্যা: এই বাক্যে মানুষের চরম নিষ্ঠুরতা ও নির্মম চরিত্র বোঝাতে মাছের মা বাগধারাটি সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। উদাহরণ ২: নিজের সন্তানের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন দেখে সবাই তাকে মাছের মা বলে ধিক্কার জানাল। ব্যাখ্যা: এখানে মানুষের ভেতরের চরম নিষ্ঠুর ও হৃদয়হীন প্রবৃত্তি প্রকাশ করার জন্য এই বাগধারাটি প্রয়োগ করা হয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) নীতিহীন — নীতিহীন অর্থ যার কোনো নৈতিকতা বা সততা নেই, যা মাছের মা বাগধারার নিষ্ঠুর ভাবার্থের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে না। B) নিষ্ঠুর — এই অপশনটি সম্পূর্ণ সঠিক কারণ মাছের মায়ের স্বভাবসুলভ নির্মমতা থেকে এই নিষ্ঠুর অর্থটিই নির্ধারিত হয়েছে। C) কঠোর — কঠোর বলতে শক্ত বা কঠিন আচরণ বোঝায়, কিন্তু বাগধারাটির নির্দিষ্ট ভাবার্থ কেবল কঠোরতা ছাড়িয়ে চরম নির্মমতা বা নিষ্ঠুরতাকে নির্দেশ করে। D) অত্যাচারী — অত্যাচারী অর্থ যে অন্যর ওপর নির্যাতন চালায়, কিন্তু মাছের মা মূলত নির্মম বা নিষ্ঠুর হৃদয়হীনতাকে বোঝাতে বেশি উপযোগী। ৫. মনে রাখার টিপস: মাছ যেমন নিজের ডিম নিজেই খেয়ে ফেলে কোনো দয়া মায়া না দেখিয়ে, তেমনি যার মনে কোনো দয়া নেই সে হলো নিষ্ঠুর তথা মাছের মা। এই কৌশলটি মনে রাখলে পরীক্ষাকলে খুব সহজেই সঠিক উত্তরটি চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই পশুপাখি বা প্রকৃতি সংশ্লিষ্ট বাগধারাগুলোর ভাবার্থ জানতে চাওয়া হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে শব্দের আক্ষরিক অর্থের চেয়ে তার পেছনের ঐতিহ্যগত ভাবার্থ বা লোকবিশ্বাসকে গুরুত্ব দিতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0