প্রশ্নের বর্ণনা

a দ্বন্দ্ব
b কর্মধারয়
c বহুব্রীহি
d অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) বহুব্রীহি ১. কেন সঠিক: যে সমসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো নতুন অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। এখানে 'দশ' ও 'আনন' (মাথা) কোনো পদের পৃথক অর্থ না বুঝিয়ে রাবণ নামক পৌরাণিক চরিত্রকে বোঝাচ্ছে, তাই এটি বহুব্রীহি সমাস। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের অর্থ প্রধান না হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো পদের অর্থ প্রধান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। এই সমাসে সাধারণত ব্যাসবাক্যের শেষে যার, যাহারা বা যাতে ইত্যাদি পদ ব্যবহৃত হয় এবং এটি বিশেষ্য পদ হিসেবে কাজ করে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: বিষাদ সিন্ধু যাহার = বিষাদসিন্ধু ব্যাখ্যা: এটি বহুব্রীহি সমাস কারণ এখানে বিষাদ বা সিন্ধু অর্থ না বুঝিয়ে একটি বিশেষ সাহিত্যকর্মের নাম বোঝাচ্ছে। উদাহরণ ২: এক দিকে চোখ যার = একচোখা ব্যাখ্যা: এটি বহুব্রীহি সমাস কারণ এখানে পক্ষপাতদুষ্ট বা একচোখা ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) দ্বন্দ্ব — দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থ প্রধান থাকে, কিন্তু এখানে অন্য পদ প্রধান হয়েছে। B) কর্মধারয় — কর্মধারয় সমাসে একটি পদ বিশেষ্য ও অন্যটি বিশেষণ হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে, যা এখানে প্রযোজ্য নয়। C) বহুব্রীহি — এই অপশনটি সঠিক কারণ এখানে নতুন অর্থ প্রকাশ পেয়েছে। D) অব্যয়ীভাব — অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান থাকে এবং অব্যয় যোগে সমাস হয়, যা এখানে হয়নি। ৫. মনে রাখার টিপস: ব্যাসবাক্যের শেষে যদি যাহার বা যাতে থাকে এবং সমস্ত পদটি যদি অন্য কোনো ব্যক্তিকে বা বস্তুকে বোঝায়, তবে চোখ বুজে বহুব্রীহি সমাস দাগাবে। সংখ্যাবাচক শব্দের সাথে বহুব্রীহি সমাস হলে এবং তা যদি নতুন কোনো অর্থ প্রকাশ করে, তবে তা সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি হয়। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: বহুব্রীহি সমাসের ক্ষেত্রে সমস্যমান পদের বাইরে অন্য কোনো পদের অর্থ প্রাধান্য পায় কি না, তা ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হবে। পরীক্ষায় প্রায়ই রাবণ বোঝাতে দশানন বা ত্রিশূল হাতে যার ত্রিশূলী ইত্যাদি শব্দ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ হিসেবে আসে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0