প্রশ্নের বর্ণনা

a অর্থের অভাব
b অর্থের প্রাচুর্য
c অর্থের কু-প্রভাব
d অর্থের অহঙ্কার
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) অর্থের কু-প্রভাব ১. কেন সঠিক: - ‘তামার বিষ’ একটি জনপ্রিয় বাংলা বাগধারা যার অন্তর্নিহিত অর্থ হলো অর্থের কু-প্রভাব বা টাকার অহংকার ও কুফল। - এই বাগধারায় তামা বলতে সাধারণ বা লোভনীয় ধাতুকে বোঝানো হয়নি, বরং মানুষের চরিত্র নষ্টকারী অর্থের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাকে নির্দেশ করা হয়েছে। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - বাগধারা হলো এমন কিছু শব্দগুচ্ছ যা তাদের আক্ষরিক বা সাধারণ অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ ও ভাবার্থ প্রকাশ করে। - এটি বাংলা ভাষার অন্যতম একটি সমৃদ্ধ অংশ, যা ভাষার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং মনের ভাবকে অত্যন্ত সংক্ষেপে ও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: অতিরিক্ত অর্থ হাতে আসায় সে বন্ধুকে ভুলে গেছে, একেই বলে তামার বিষ। ব্যাখ্যা: এখানে প্রচুর টাকা পাওয়ার কারণে মানুষের নৈতিকতা ও সম্পর্কের অবক্ষয় বোঝাতে বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়েছে। উদাহরণ ২: ভাইয়ে ভাইয়ে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বের মূলে কাজ করছে তামার বিষ। ব্যাখ্যা: অর্থের প্রভাবে মানুষের সম্পর্কের অবনতি ঘটার বাস্তব পরিস্থিতি বোঝাতে এই উদাহরণটি প্রযোজ্য। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) অর্থের অভাব — ‘তামার বিষ’ বাগধারাটি সচ্ছলতা না থাকা বা অভাবের অবস্থাকে বোঝায় না, বরং উল্টো অর্থের ক্ষতিকর প্রভাবকে বোঝায়। B) অর্থের প্রাচুর্য — অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি থাকাকে সাধারণ অর্থে প্রাচুর্য বলে, কিন্তু অর্থের খারাপ প্রভাব বা কুফল বোঝাতে এই বাগধারা নির্দিষ্ট। D) অর্থের অহঙ্কার — অহংকার অর্থের একটি কুফল হতে পারে, তবে আভিধানিক ও প্রমিত অর্থে বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো অর্থের সামগ্রিক কু-প্রভাব। ৫. মনে রাখার টিপস: - তামা বা টাকা মানুষের চরিত্র বিষাক্ত করতে পারে, এভাবে মনে রাখতে পারো যে তামার বিষ মানে হলো অর্থের কু-প্রভাব। - অর্থের কারণে মানুষের মন ও নীতি নষ্ট হওয়া বোঝাতে এই বাগধারাটি মনে রাখবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অর্থভিত্তিক বাগধারা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। - এ ধরনের প্রশ্ন সমাধানের জন্য বাগধারার আক্ষরিক অর্থের চেয়ে এর গভীরের ভাবার্থ বা রূপক অর্থ ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0