প্রশ্নের বর্ণনা

a অনিষ্ট চিন্তা
b কপট নিদ্রা
c অগভীর সতর্ক নিদ্রা
d অলস নিদ্রা
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) অগভীর সতর্ক নিদ্রা ১. কেন সঠিক: - 'কাকনিদ্রা' একটি বহুল ব্যবহৃত প্রবাদপ্রতিম বাগধারা। কাক অত্যন্ত চালাক ও কম ঘুমে অভ্যস্ত পাখি হওয়ায় সামান্য শব্দেও সজাগ হয়ে ওঠে। - এই মানবীয় বা প্রাণিজ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তুলনা করে সামান্য শব্দেই বা খুব হালকাভাবে ঘুমানো এবং প্রতি মুহূর্তে সজাগ থাকার অবস্থাকে 'অগভীর সতর্ক নিদ্রা' বলা হয়। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - বাগধারা হলো এমন কিছু শব্দসমষ্টি যা আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ ও ভাবার্থ প্রকাশ করে। - বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিভিন্ন পশুপাখির স্বভাব বা বৈশিষ্ট্য নিয়ে বহু বাগধারা তৈরি হয়েছে, যা ভাষার ভাবকে সমৃদ্ধ করে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: সারারাত কচ্ছপের মতো বসে পাহারা দিয়ে এখন সে কাকনিদ্রায় মগ্ন হয়েছে। ব্যাখ্যা: এই বাক্যে কম ঘুমানো বা হালকা ঘুমের অবস্থাকে বোঝাতে কাকনিদ্রা ব্যবহার করা হয়েছে। উদাহরণ ২: পরীক্ষার আগের রাতে ছাত্রটি গভীর ঘুমাতে পারেনি, তার ঘুম ছিল কাকনিদ্রার মতো। ব্যাখ্যা: সামান্য শব্দেই ভেঙে যায় এমন সতর্ক ও হালকা ঘুম বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) অনিষ্ট চিন্তা — এই অর্থটি বাগধারার ভাবের সঙ্গে মেলে না কারণ অনিষ্ট চিন্তা মানুষের মানসিক ভাব প্রকাশ করে ঘুমের অবস্থা নয়। B) কপট নিদ্রা — কপট নিদ্রা অর্থ ঘুমের ভান করা বা জেগে থেকেও ঘুমানোর ভাব করা, যা কাকনিদ্রার সতর্ক ঘুমের বিপরীত। D) অলস নিদ্রা — অলস নিদ্রা অর্থ দীর্ঘ ও কর্মবিমুখ ঘুম, অথচ কাকনিদ্রা দীর্ঘ নয় বরং অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্বল্পকালীন ঘুম। ৫. মনে রাখার টিপস: কাক যেমন সামান্য শব্দে উড়ে পালায়, তেমনি যার ঘুম সামান্য শব্দেই ভেঙে যায় তাকে কাকনিদ্রা বলে মনে রাখবে। সতর্ক ও হালকা ঘুমের সঙ্গে কাকের স্বভাবের মিল রয়েছে এই কৌশল মাথায় রাখবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই পশুপাখির স্বভাবনির্ভর বাগধারা যেমন কাকনিদ্রা, বিড়ালতপস্বী বা কুম্ভীরাশ্রু থেকে প্রশ্ন আসে। বাগধারার আক্ষরিক অর্থ না ধরে এর প্রচলিত ভাবার্থ ও রূপক অর্থ ভালোভাবে বুঝে মুখস্থ রাখতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0