প্রশ্নের বর্ণনা

a দুই ভাষায় রচিত পুঁথি
b কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি
c তৈরি করা কৃত্রিম ভাষার রচিত পুঁথি
d আঞ্চলিক ভাষায় রচতি পুঁথি
0 10 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি ১. কেন সঠিক: - দোভাষী পুঁথি বলতে এমন সাহিত্যকর্মকে বোঝায় যা একক কোনো ভাষায় রচিত নয়, বরং বাংলা ভাষার পাশাপাশি আরবি, ফার্সি ও হিন্দি ভাষার শব্দের সংমিশ্রণে তৈরি মিশ্রিত ভাষায় রচিত হয়েছে। - মধ্যযুগে এবং পরবর্তী সময়ে মুসলিম কবিগণ ইসলামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় উপাখ্যান প্রচারের উদ্দেশ্যে সহজ ও সাবলীল মিশ্রিত এই ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলিম কবিদের সাধনায় এক নতুন ধারার সৃষ্টি হয় যা দোভাষী পুঁথি সাহিত্য নামে পরিচিত। - এই সাহিত্যে বাংলা ব্যাকরণের কাঠামোর মধ্যে প্রচুর আরবি, ফার্সি ও তর্কি শব্দের ব্যবহার দেখা যায় যা সাধারণ মানুষের বোধগম্য ছিল। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: সৈয়দ হামজার জয়নুলের চৌদিশ ব্যাখ্যা: এটি দোভাষী পুঁথি সাহিত্যের একটি ধ্রুপদী উদাহরণ যেখানে একাধিক ভাষার শব্দের সংমিশ্রণ ঘটেছে। উদাহরণ ২: দৌলত উজির বাহরাম খানের লায়লী মজনু ব্যাখ্যা: এই কাব্যটিতেও মিশ্রিত ভাষারীতি ও দোভাষী পুঁথির বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) দুই ভাষায় রচিত পুঁথি — দোভাষী পুঁথি কেবল দুটি ভাষা নয়, বরং একাধিক ভাষার সংমিশ্রণে গঠিত হতো বলে এই অপশন সঠিক নয়। B) কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি — এটি সঠিক কারণ এতে বাংলা, আরবি ও ফার্সি ভাষার শব্দের মিশ্রণ থাকে। C) তৈরি করা কৃত্রিম ভাষার রচিত পুঁথি — দোভাষী পুঁথি কৃত্রিম ভাষা ছিল না, বরং সেকালের মানুষের মুখের ভাষা ও প্রচলিত শব্দরীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। D) আঞ্চলিক ভাষায় রচতি পুঁথি — দোভাষী পুঁথি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষারীতিতে রচিত নয়, বরং এটি একটি মিশ্র সাহিত্যিক ভাষা। ৫. মনে রাখার টিপস: - দোভাষী পুঁথি মানেই হলো মিশ্র ভাষা। মনে রাখবে, ইসলামি সংস্কৃতির প্রভাবে বাংলা, আরবি ও ফার্সি শব্দের মিলন ঘটেছে এই ধারায়। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মধ্যযুগের পুঁথি সাহিত্য থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। দোভাষী পুঁথির ভাষা যে মিশ্র প্রকৃতির, তা মনে রাখা জরুরি।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0