প্রশ্নের বর্ণনা

a আউল মনোহর দাস
b চৈতন্য দেব
c শ্রীকৃষ্ণ
d আদিনাথ শিব
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) চৈতন্য দেব ১. কেন সঠিক: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে শ্রীচৈতন্যদেবের প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সুদূরপ্রসারী। তাঁর জীবন ও আদর্শকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব পদাবলী এবং চৈতন্যজীবনী সাহিত্য ধারার সৃষ্টি হয়। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: শ্রীচৈতন্যদেব হলেন ষোল শতকের প্রথমার্ধে আবির্ভূত বাংলার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারক। তাঁর প্রবর্তিত বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবে বাংলা ভাষায় ভক্তি সাহিত্য ও জীবনী সাহিত্যের এক নতুন যুগের সূচনা ঘটে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: বৃন্দাবন দাসের শ্রীচৈতন্যভাগবত ব্যাখ্যা: এটি চৈতন্যদেবের জীবনীভিত্তিক প্রথম ও অন্যতম প্রধান প্রামাণ্য গ্রন্থ, যা মধ্যযুগের সাহিত্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ ২: কৃষ্ণদাস কবিরাজের শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত ব্যাখ্যা: এই মহাকাব্যের মাধ্যমে চৈতন্যদেবের দর্শন ও জীবনদর্শন বাংলা সাহিত্যে স্থায়ীভাবে স্থান লাভ করেছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) আউল মনোহর দাস — ইনি মধ্যযুগের একজন সাধারণ সাধক বা কবি হলেও বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রভাব চৈতন্যদেবের মতো ব্যাপক বা নির্ণায়ক নয়। B) চৈতন্য দেব — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এটি গ্রহণযোগ্য। C) শ্রীকৃষ্ণ — শ্রীকৃষ্ণ হলেন পৌরাণিক দেবতা ও বৈষ্ণব সাহিত্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র, তবে সরাসরি ধর্মপ্রচারক হিসেবে মধ্যযুগের সাহিত্যকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে চৈতন্যদেবের ভূমিকা প্রধান। D) আদিনাথ শিব — শিব হিন্দুধর্মের প্রধান দেবতা, যিনি মধ্যযুগের নাথ সাহিত্য বা শিবায়ন কাব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও চৈতন্যদেবের মতো ধর্মপ্রচারক হিসেবে প্রভাব ফেলেননি। ৫ মনে রাখার টিপস: মধ্যযুগে ধর্মের নামে ভক্তি আন্দোলন ও সাহিত্য বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন শ্রীচৈতন্যদেব। তাই ধর্মপ্রচারকের প্রভাব এলেই চৈতন্যদেবের নাম মনে রাখতে হবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্দোলন ছিল বৈষ্ণব ধর্ম আন্দোলন। চৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে বাংলা জীবনী সাহিত্যের বিকাশ ঘটেছিল।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0