প্রশ্নের বর্ণনা

a দৌলত কাজী
b মাগন ঠাকুর
c সৈয়দ সুলতান
d আলাওল
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: A) দৌলত কাজী ১. কেন সঠিক: দৌলত কাজী মধ্যযুগের আরাকান রাজসভার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি যিনি হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসত' বা 'সতীময়না' কাব্য অবলম্বনে 'সতীময়নালোর চন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন। এই কাব্যটির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সূচনা হয়েছিল যা পরে আলাওল সম্পূর্ণ করেন। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: কবি দৌলত কাজী সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে আরাকান রাজসভার মন্ত্রী শ্রীচন্দ্রের নির্দেশে এই মহৎ কাব্য রচনা শুরু করেন। আরাকান রাজসভা সেসময় বাংলা সাহিত্য চর্চার এক অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল যেখানে মুসলমান কবিগণ ফার্সি ও হিন্দি সাহিত্যের ভাবানুবাদে বাংলা কাব্য রচনা করতেন। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: আলাওলের 'পদ্মাবতী' কাব্য। ব্যাখ্যা: এটি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবত' অবলম্বনে রচিত আরেকটি বিখ্যাত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। উদাহরণ ২: শাহ মুহম্মদ সগীরের 'ইউসুফ জোলেখা'। ব্যাখ্যা: এটি প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের মুসলিম রচিত প্রথম স্বাধীন ও মৌলিক প্রণয়মূলক কাব্যধারা। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) দৌলত কাজী — এই অপশনটি সঠিক কারণ তিনি মৈনাসত অবলম্বনে মূল কাব্য রচনা করেছিলেন। B) মাগন ঠাকুর — তিনি দৌলত কাজীর অসমাপ্ত কাব্য সমাপ্ত করার জন্য কবি আলাওলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, নিজে এই কাব্য রচনা করেননি। C) সৈয়দ সুলতান — তিনি মধ্যযুগের একজন বিশিষ্ট কবি হলেও মৈনাসত বা সতীময়নালোর চন্দ্রানী কাব্য রচনা করেননি। D) আলাওল — তিনি দৌলত কাজীর মৃত্যুর পর অসমাপ্ত সতীময়না কাব্য সমাপ্ত করেছিলেন, তবে মূল রচয়িতা দৌলত কাজী। ৫ মনে রাখার টিপস: সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী প্রেমের গল্প, আর এর মূল কারিগর বা কাজী হলেন দৌলত কাজী। এভাবে কাব্যের নামের সাথে কবির নাম যুক্ত করে সহজেই মনে রাখা যায়। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মধ্যযুগের কবি ও তাঁদের পৃষ্ঠপোষকদের নাম খুব প্রায়ই আসে। আরাকান রাজসভার কবিদের মধ্যে দৌলত কাজী ও আলাওলের নাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0