প্রশ্নের বর্ণনা

a তীরে পৌঁছার ঝক্কি
b সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি
c মুমূর্ষু অবস্থা
d আসন্ন বিপদ
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি ১. কেন সঠিক: - 'নিরানব্বইয়ের ধাক্কা' বাগধারাটির বিশেষ অর্থ হলো সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি বা অর্থ জমানোর প্রবল ইচ্ছা। - মানুষ যখন শতক পূর্ণ করার বা এক শ পূরণের কাছাকাছি অর্থাৎ নিরানব্বই এ পৌঁছায়, তখন তার মধ্যে এক শ পূর্ণ করার এক ধরনের জেদ ও কৃপণসুলভ অর্থ জমানোর প্রবণতা তৈরি হয়। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রবাদ ও বাগধারা, যা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক আচরণ ও স্বভাবকে ফুটিয়ে তোলে। - বাগধারা হলো এমন বিশেষ শব্দসমষ্টি যা আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ না করে একটি ভিন্ন ও ভাবার্থ প্রকাশ করে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: সারাজীবন শুধু টাকা কামালো আর জমানোই হলো তার জীবনের ব্রত, একেই বলে নিরানব্বইয়ের ধাক্কা। ব্যাখ্যা: এই বাক্যে মানুষের অতিরিক্ত অর্থ জমানোর মানসিকতাকে বোঝাতে বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়েছে। উদাহরণ ২: বৃদ্ধ বয়সে এসেও তিনি একটি পয়সাও খরচ করতে চান না, কারণ তার মনে এখন নিরানব্বইয়ের ধাক্কা কাজ করছে। ব্যাখ্যা: এখানে কৃপণতা ও সঞ্চয় করার অতিরিক্ত প্রবৃত্তি বোঝাতে বাগধারাটির প্রয়োগ দেখানো হয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) তীরে পৌঁছার ঝক্কি — এটি বাগধারার প্রচলিত অর্থ নয় কারণ এটি কাজের শেষ মুহূর্তের জটিলতা বোঝায়। B) সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি — এটি সঠিক কারণ এই বাগধারাটি কৃপণতা ও অর্থ জমানোর তীব্র ইচ্ছাকে নির্দেশ করে। C) মুমূর্ষু অবস্থা — এই অর্থের জন্য 'তিলে তিলে ক্ষয়' বা 'শেষ দশা' জাতীয় বাগধারা ব্যবহার করা হয়। D) আসন্ন বিপদ — আসন্ন বিপদ বোঝাতে 'অসিধারের কাজ' বা 'মাথার উপর খড়্গ' বাগধারাটি উপযুক্ত। ৫. মনে রাখার টিপস: - নিরানব্বই সংখ্যাটি ১০০ পূর্ণ হতে মাত্র ১ কম থাকে, তাই এক শ পূরণ করার জন্য মানুষ যেভাবে মরিয়া হয়ে টাকা জমায় তা থেকেই সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি মনে রাখা সহজ হয়। - ধাক্কা শব্দটিকে এখানে কৃপণতা বা অর্থ জমানোর তাগিদ হিসেবে মনে রাখতে হবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই মানবস্বভাব ও প্রবৃত্তিভিত্তিক বাগধারাগুলো থেকে প্রশ্ন আসে। - অর্থের গভীরতা বুঝে অপশন নির্বাচন করতে হয় কারণ অনেক সময় আক্ষরিক অর্থের সঙ্গে বাগধারার আসল অর্থের মিল থাকে না।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0