প্রশ্নের বর্ণনা

a সাধুরীতি
b চলিত রীতি
c আঞ্চলিক রীতি
d উভয় রীতি
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) চলিত রীতি ১. কেন সঠিক: আধুনিককালে সারাংশ, সারমর্ম, ভাবসম্প্রসারণ বা যেকোনো গদ্য রচনার ক্ষেত্রে চলিত রীতি অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও উপযোগী। চলিত রীতি সহজ, সাবলীল এবং সর্বজনবোধ্য হওয়ায় মূল বক্তব্য খুব অল্প কথায় স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষার দুটি রূপ রয়েছে, যথা সাধুরীতি ও চলিত রীতি। সাধুরীতি মূলত তৎসম শব্দবহুল এবং এর ক্রিয়া ও সর্বনাম পদ বিশেষ রূপ নেয়, যা কিছুটা গুরুগম্ভীর। অন্যদিকে চলিত রীতি পরিবর্তনশীল, জীবন্ত এবং প্রমিত বাংলার ভিত্তি। বর্তমানে দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা এবং পরীক্ষার খাতায় লেখার মাধ্যম হিসেবে চলিত রীতিই নির্ধারিত। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: কোনো বড় অনুচ্ছেদের মূলভাব চলিত রীতিতে সংক্ষিপ্ত করে লেখাকেই যথাযথ সারাংশ বলা হয়। ব্যাখ্যা: এতে মূল রচনার অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়ে প্রধান বার্তাটি চলিত ভাষার মাধুর্যে প্রকাশ করা হয়। উদাহরণ ২: সংবাদপত্রের প্রতিবেদন কিংবা পাঠ্যবইয়ের সারাংশ সবসময় চলিত রীতিতেই লেখা হয়। ব্যাখ্যা: চলিত রীতি পাঠকের মনে দ্রুত রেখাপাত করে এবং বুঝতে সহজ হয়। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) সাধুরীতি — সাধুরীতি অত্যন্ত গুরুগম্ভীর ও কৃত্রিম হওয়ায় আধুনিককালে সারাংশ বা সংক্ষিপ্ত লেখার জন্য এটি অনুপযুক্ত। B) চলিত রীতি — এটি সঠিক অপশন এবং আধুনিক বাংলা রচনার সর্বজনগ্রাহ্য মাধ্যম। C) আঞ্চলিক রীতি — আঞ্চলিক রীতি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষের মুখে সীমাবদ্ধ এবং এটি প্রমিত বা সর্বজনবোধ্য না হওয়ায় সারাংশে ব্যবহার করা যায় না। D) উভয় রীতি — সারাংশ লেখার ক্ষেত্রে দুটিী রীতির মিশ্রণ বা উভয় রীতি ব্যবহার করা ব্যাকরণগতভাবে মারাত্মক ভুল বা গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। ৫. মনে রাখার টিপস: সংক্ষিপ্ত ও আধুনিক লেখা মানেই চলিত রীতি। পরীক্ষার খাতায় সারাংশ বা ভাবসম্প্রসারণ লেখার সময় সব সময় চলিত রীতি ব্যবহার করবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: বাংলা ব্যাকরণে সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য এবং লেখার মাধ্যম হিসেবে চলিত রীতির ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে। সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে, যা পরিহার করা বাধ্যতামূলক।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0