প্রশ্নের বর্ণনা

a আপনভাগ্য
b বিধাতার ইচ্ছা
c অলঙ্গনীয়
d কপালের কালি দিয়ে লেখা
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) বিধাতার ইচ্ছা ১. কেন সঠিক: - 'কপালের লিখন' একটি বহুল ব্যবহৃত বাগধারা, যার আক্ষরিক অর্থ কপালে বা ললাটে যা লেখা আছে এবং ভাবগত অর্থ মানুষের ভাগ্য বা নিয়তি। - হিন্দু পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী মানুষের জন্মের আগেই বিধাতা তার ভাগ্য ললাটে লিখে দেন, যা মানুষের নিজের চেষ্টায় পরিবর্তন করা অসম্ভব। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ব্যাকরণের বাগধারা বা প্রবাদ-প্রবচনের অন্তর্ভুক্ত একটি বিশেষ অর্থবাহী শব্দগুচ্ছ, যা সাধারণ অর্থের বাইরে গিয়ে একটি বিশেষ ভাব প্রকাশ করে। - এখানে ললাট বা কপাল শব্দটি ভাগ্য বা নিয়তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং লিখন শব্দটি বিধাতার অবধারিত বিধানকে নির্দেশ করে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: মানুষের চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে কারণ কপাল র লিখন খণ্ডানো যায় না। ব্যাখ্যা: এখানে কপাল এর লিখন বলতে অমোঘ ভাগ্য বা বিধাতার ইচ্ছাকে বোঝানো হয়েছে। উদাহরণ ২: যা কপালে লেখা আছে তা খণ্ডানোর সাধ্য কার? ব্যাখ্যা: এই বাক্যে ভাগ্যের নির্ধারিত পরিণতি বা বিধাতার বিধানের অপরিবর্তনীয় রূপ প্রকাশ পেয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) আপনভাগ্য — এটি মানুষের নিজের কর্মফল বা ব্যক্তিগত ভাগ্যকে বোঝায়, কিন্তু বাগধারাটির মূল ভাব হলো পূর্বনির্ধারিত বা ঈশ্বরের বিধান। B) বিধাতার ইচ্ছা — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি কপালের লিখন বা নিয়তির আসল দার্শনিক তাৎপর্য বহন করে। C) অলঙ্গনীয় — এটি একটি বিশেষণের অর্থ, যার অর্থ যা লঙ্ঘন করা যায় না, কিন্তু এটি সরাসরি বাগধারাটির ভাবার্থ বা মূল বিষয়কে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করে না। D) কপালের কালি দিয়ে লেখা — এটি বাগধারাটির একটি হাস্যরসাত্মক আক্ষরিক অর্থ, কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এর ভাবগত অর্থই গ্রহণ করা হয়। ৫. মনে রাখার টিপস: - কপালের লিখন মানেই ভাগ্যের লিখন বা বিধাতার অলঙ্ঘনীয় ইচ্ছা, যা মানুষের সাধনার বাইরে। - মনে রাখার জন্য কপাল শব্দটিকে ভাগ্য এবং লিখন শব্দটিকে বিধাতার বিধান হিসেবে মনে রাখতে হবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারার উৎস ও ভাবার্থ প্রায়ই আসে। - এ ধরনের প্রশ্ন সমাধানের সময় আক্ষরিক অর্থের চেয়ে অন্তর্নিহিত বা ভাবার্থের ওপর বেশি জোর দিতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0