প্রশ্নের বর্ণনা

a মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
b বিদ্যাপতি
c ভারতচন্দ্র রায়
d কবি কঙ্ক
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) ভারতচন্দ্র রায় ১. কেন সঠিক: অন্নদামঙ্গল কাব্যটি আঠারো শতকের মধ্যভাগে রচিত বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্যের ধারার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শেষ উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। কবি ভারতচন্দ্র রায় এই কাব্য রচনা করে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন এবং রায়গুণাকর উপাধিতে ভূষিত হন। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: কবি ভারতচন্দ্র রায় অষ্টাদশ শতকের বিশিষ্ট কবি এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সমাপ্তি পর্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত। তার অন্নদামঙ্গল কাব্যটি তিনটি অংশে বিভক্ত যথা অন্নদামঙ্গল বা অন্নপূর্ণামঙ্গল, বিদ্যাসুন্দর এবং মানসিংহ বা ভবানন্দ মজুমদার। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: বিদ্যাসুন্দর অংশটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পঠিত একটি অংশ যা প্রেমের কাহিনীর জন্য বিখ্যাত। ব্যাখ্যা: এই অংশে রাজকুমারী বিদ্যার সঙ্গে যুবরাজ সুন্দরের গোপন প্রেমের প্রণয় ও মিলন কাহিনী অত্যন্ত সুনিপুণভাবে কাব্যরূপ লাভ করেছে। উদাহরণ ২: আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে এই বিখ্যাত পংক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্য থেকে সংগৃহীত হয়েছে। ব্যাখ্যা: ঈশ্বরী পাটুনীর এই প্রার্থনাটি বাংলা সাহিত্যে এবং সাধারণ মানুষের মুখে মুখে চিরদিন স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী — এই কবি মঙ্গলকাব্য ধারার চণ্ডীমঙ্গল বা কবিকঙ্কণ চণ্ডী কাব্যের রচয়িতা এবং তাকে কবিকঙ্কণ উপাধি দেওয়া হয়। B) বিদ্যাপতি — তিনি মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মৈথিলি ভাষার কবি যিনি বাংলা সাহিত্যেরও প্রাঙ্গণে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। D) কবি কঙ্ক — এটি কোনো স্বতন্ত্র কবি নয় বরং মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি কবিকঙ্কণ নামটির একটি অংশ মাত্র। ৫ মনে রাখার টিপস: অন্নদামঙ্গল কাব্যের অমর পংক্তি দুধে ভাতে কে চেয়েছিলেন তা মনে রাখলে এবং এর রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায় তা স্মরণ করলে সহজেই উত্তর মনে রাখা যায়। মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়ের উপাধি রায়গুণাকর এবং তার অমর সৃষ্টি অন্নদামঙ্গল এটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ সার্থক কবি ভারতচন্দ্র রায় এবং তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি অন্নদামঙ্গল কাব্য সম্পর্কে পরীক্ষায় প্রশ্ন থাকে। একইভাবে অন্যান্য মঙ্গলকাব্যের কবি যেমন মনসামঙ্গলের কানহাদত্ত বা দ্বিজ বংশীদাস এবং চণ্ডীমঙ্গলের মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর নাম ভালোভাবে পড়তে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0