প্রশ্নের বর্ণনা

a প্রাদি সমাস
b ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
c তৎপুরুষ সমাস
d কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস ১. কেন সঠিক: - পারস্পরিক ক্রিয়া বা একই কাজের বিনিময় বোঝালে যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। - লাঠিতে লাঠিতে যে লড়াই, তা নির্দেশ করতে ‘লাঠালাঠি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় এবং এর ব্যাসবাক্য হলো লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - বহুব্রীহি সমাসের একটি বিশেষ প্রকার হলো ব্যতিহার বহুব্রীহি, যেখানে দুটি অভিন্ন পদের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়ার আদান-প্রদান বোঝায়। - এই সমাসের চেনার উপায় হলো পূর্বপদ ও পরপদ একই বা সদৃশ শব্দ হয় এবং মাঝে আ বা ই কার যুক্ত হয়। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: কোলাকুলি ব্যাখ্যা: কোলে কোলে যে মিলন, যা ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের নিয়মে গঠিত একটি পারস্পরিক ক্রিয়াবাচক শব্দ। উদাহরণ ২: গলাগলি ব্যাখ্যা: গলায় গলায় যে মিলন, এটিও দুটি একই পদের পারস্পরিক বোঝাপড়া বা ক্রিয়া প্রকাশ করে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) প্রাদি সমাস — প্র, পরা, অপ প্রভৃতি উপসর্গ যদি কৃৎ বা নামপদের পূর্বে যুক্ত হয়ে সমাস গঠন করে, তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে, যা এখানে প্রযোজ্য নয়। B) ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস — এটি সঠিক অপশন এবং এর নিয়ম অনুযায়ী পারস্পরিক লড়াই বা বিনিময় বোঝানো হয়েছে। C) তৎপুরুষ সমাস — যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তির লোপ পেয়ে পরপদের অর্থের প্রধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে, কিন্তু লাঠালাঠি পারস্পরিক অর্থ প্রকাশ করায় এটি তৎপুরুষ নয়। D) কর্মধারয় সমাস — বিশেষ্য ও বিশেষণের মিলনে যে সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে তাকে কর্মধারয় বলে, যা লাঠালাঠি শব্দের গঠন ও অর্থের সাথে মেলে না। ৫. মনে রাখার টিপস: - পারস্পরিক বোঝাপড়া বা মারামারি বোঝালে এবং শব্দের শেষে আ বা ই কার থাকলে চোখ বন্ধ করে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস দাগাবে। - একই শব্দ পরপর দুবার বসে যদি কোনো ক্রিয়া বা লড়াই বোঝায়, তবে তা নিশ্চিতভাবে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস হবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় হাতাহাতি, কানাকানি, চুলাচুলি শব্দগুলো প্রায়ই ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ হিসেবে আসে। - ব্যাসবাক্য নির্ণয়ের সময় খেয়াল রাখবে যেন শব্দটির মাঝে পারস্পরিক আদান-প্রদান বা দ্বন্দ্বের ভাব প্রকাশ পায়।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0