প্রশ্নের বর্ণনা

a বটতলায় সুর করে গাওয়া হত বলে
b বটতলায় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে লেখা হত বলে
c গ্রামীণ জীবনঘনিষ্ঠ সাহিত্য ছিল বলে
d কলকাতার সস্তা প্রেস থেকে বের হত বলে
0 11 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: D) কলকাতার সস্তা প্রেস থেকে বের হত বলে ১. কেন সঠিক: উনিশ শতকের শেষের দিকে কলকাতার বিভিন্ন সস্তা ছাপাখানা বা প্রেস থেকে দোভাষী পুঁথিগুলো কম মূল্যে ছাপা হয়ে বাজারে আসত। এই সস্তা প্রকাশনাগুলোর কাগজ ও মুদ্রণ মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় এদের অবজ্ঞাসূচকভাবে 'বটতলার পুঁথি' বলা হতো। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: দোভাষী পুঁথি সাহিত্য হলো মধ্যযুগের শেষভাগ ও আধুনিক যুগের প্রারম্ভে বাংলা, আরবি ও ফারসি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ ধারার সাহিত্য। এই ধারাটি মুসলিম সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল এবং এর বিষয়বস্তু ছিল প্রধানত ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কিসসা-কাহিনি। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: সোনাভান পুঁথি ব্যাখ্যা: এটি দোভাষী পুঁথি সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাব্য যা ফকিরাম দাসের নামে প্রচলিত এবং সস্তা প্রেসে মুদ্রিত হয়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। উদাহরণ ২: জঙ্গনামা ব্যাখ্যা: কারবালার যুদ্ধের কাহিনি নিয়ে রচিত এই পুঁথিটিও দোভাষী ভাষায় রচিত এবং পরবর্তীতে কলকাতার বিভিন্ন বটতলার প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়েছিল। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) বটতলায় সুর করে গাওয়া হত বলে — এই তথ্যটি সঠিক নয় কারণ পুঁথিগুলো ঘরের ভেতর বা আসরে গাওয়া হতো, বটতলায় গাওয়ার কারণে একে বটতলার পুঁথি বলা হয়নি। B) বটতলায় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে লেখা হত বলে — পুঁথি রচনায় কোনো প্রতিযোগিতার ইতিহাস নেই, বরং এটি ছিল একটি জনবহুল প্রকাশনা প্রবণতা। C) গ্রামীণ জীবনঘনিষ্ঠ সাহিত্য ছিল বলে — পুঁথিগুলোর বিষয়বস্তু গ্রামীণ জীবন নয় বরং মূলত ধর্মীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসনির্ভর ছিল। D) কলকাতার সস্তা প্রেস থেকে বের হত বলে — এটি সঠিক কারণ কলকাতার বটতলা এলাকার সস্তা ছাপাখানা থেকে এগুলো প্রকাশিত হতো বলেই এদের এই নাম দেওয়া হয়। ৫ মনে রাখার টিপস: বটতলা মানেই হলো কলকাতার সস্তা ও নিম্নমানের প্রেস থেকে প্রকাশিত সস্তা সাহিত্য। দোভাষী পুঁথিগুলো এই সস্তা প্রেস থেকে বের হতো বলেই এদের বটতলার পুঁথি বলা হয়। ৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দোভাষী পুঁথির ভাষা এবং এর প্রকাশনার ইতিহাস সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে। দোভাষী পুঁথির মূল বৈশিষ্ট্য হলো বাংলা ভাষার সাথে আরবি ও ফারসি শব্দের সংমিশ্রণ।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0