প্রশ্নের বর্ণনা

a অসমীয়া
b উড়িয়া
c মৈথিলী
d কোল ভাষা
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: D) কোল ভাষা ১. কেন সঠিক: চর্যাপদের ভাষা মূলত বাংলা ভাষার প্রাচীন রূপ, যা তৈরি হয়েছিল তৎকালীন বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আদিবাসী ভাষার মিশ্রণে। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং ড. সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের ভাষায় কোল, ভিল, শবর ও পুলিন্দ ইত্যাদি প্রাচীন অস্ট্রিক ও দ্রাবিড়ভাষী জনগোষ্ঠীর ভাষার গভীর প্রভাব রয়েছে। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন এবং বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত পদসংকলন। এটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশ করেন। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চর্যাপদে ব্যবহৃত শবর বা কোল ভাষার শব্দ ডোম, চণ্ডাল ইত্যাদি। ব্যাখ্যা: এই শব্দগুলো তৎকালীন আদিবাসী সমাজ থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। উদাহরণ ২: চর্যাপদের ভাষা ও ছন্দের মধ্যে সন্ধ্যাভাষা বা আলো-আঁধারি রূপ দেখা যায়। ব্যাখ্যা: এর মাধ্যমে বাহ্যিক অর্থ ও ভেতরের গূঢ় আধ্যাত্মিক অর্থ একসঙ্গে প্রকাশ করা হতো। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) অসমীয়া — অসমীয়া ভাষা চর্যাপদ থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং চর্যাপদে এর প্রাচীন রূপের প্রভাব থাকলেও মূল প্রভাব কোল ভাষার মতো আদিবাসী ভাষার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। B) উড়িয়া — উড়িয়া ভাষার সঙ্গে চর্যাপদের মিল থাকলেও এটি ওড়িশার আঞ্চলিক ভাষার সরাসরি নির্দেশক নয়। C) মৈথিলী — মৈথিলী ভাষার প্রভাব চর্যাপদের পরবর্তী সময়ের পদাবলীতে বিশেষ করে বিদ্যাপতির পদে দেখা যায়, চর্যাপদের মূল আদলে নয়। D) কোল ভাষা — এটি সঠিক কারণ চর্যাপদের শব্দভাণ্ডার ও ব্যাকরণে অস্ট্রিক ও কোল ভাষার জোরালো প্রভাব রয়েছে। ৫ মনে রাখার টিপস: চর্যাপদের ভাষা মূলত প্রাচীন বাংলা, তবে এতে কোল, শবর ও ভিল ভাষার মতো আদিবাসী উপাদানের প্রভাব রয়েছে। পরীক্ষায় আদিবাসী ভাষার প্রভাব চাইলে কোল বা শবর ভাষা উত্তর হিসেবে মনে রাখবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: চর্যাপদের ভাষা আবিষ্কার করেন এবং এর ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেন ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। চর্যাপদের ভাষা সান্ধ্য ভাষা বা সন্ধ্যা ভাষা নামে পরিচিত।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0