প্রশ্নের বর্ণনা

a ঘর থেকে ছেড়ে = ঘরছাড়া
b অরুণের মত রাঙা = অরুণরাঙা
c হাসিমাখা মুখ = হাসিমুখ
d ক্ষণ ব্যাপিয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) হাসিমাখা মুখ = হাসিমুখ ১. কেন সঠিক: যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যস্থিত পদের সম্পূর্ণ অর্থ লুপ্ত হয়ে নতুন পদ গঠিত হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। এখানে 'হাসিমাখা মুখ' ব্যাসবাক্যের মাঝখানের 'মাখা' শব্দটি সমাসবদ্ধ হওয়ার পর লুপ্ত হয়ে 'হাসিমুখ' পদটি গঠন করেছে। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: কর্মধারয় সমাসে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতিভাত হয় এবং বিশেষ্য ও বিশেষণে মিলে সমাস হয়। মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের ক্ষেত্রে ব্যাসবাক্যের মাঝখানের পদ বা পদগুলো সমস্ত পদে এসে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায় কিন্তু অর্থের সংগতি বজায় থাকে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন ব্যাখ্যা: এখানে মাঝখানের 'চিহ্নিত' পদটি লোপ পেয়ে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হয়েছে। উদাহরণ ২: পল মিশ্রিত অম্ল = পলান্ন ব্যাখ্যা: এখানে মাঝখানের 'মিশ্রিত' পদটি লুপ্ত হয়ে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের সৃষ্টি করেছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) ঘর থেকে ছেড়ে = ঘরছাড়া — এটি অপাদান তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কারণ এখানে 'থেকে' বা বিচ্যুতি বোঝাচ্ছে। B) অরুণের মত রাঙা = অরুণরাঙা — এটি উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ যেখানে সাধারণ ধর্ম উহ্য না থেকে তুলনা বোঝানো হয়েছে। C) হাসিমাখা মুখ = হাসিমুখ — এটি সঠিক এবং এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত। D) ক্ষণ ব্যাপিয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী — এটি ব্যাসবাক্যের গঠনগত দিক থেকে কর্মধারয় সমাস হলেও এখানে 'ব্যাপিয়া' শব্দটির লোপ ভিন্ন ব্যাকরণগত নিয়মে সাধিত হয়েছে। ৫. মনে রাখার টিপস: ব্যাসবাক্যের মাঝখানের অংশ যদি সমস্ত পদে যাওয়ার সময় হাওয়া হয়ে যায় বা হারিয়ে যায়, তবে চোখ বন্ধ করে তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে দাগিয়ে দেবে। মাঝের পদ গায়েব হওয়াই হলো এই সমাসের প্রধান চাবিকাঠি। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। সিংহাসন, পলান্ন, ঘিয়েভাজা, মোমবাতি এই শব্দগুলো নিয়মিত চর্চা করলে পরীক্ষাকেন্দ্রে খুব দ্রুত সঠিক উত্তর নির্ধারণ করা সহজ হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0