প্রশ্নের বর্ণনা

a ব্যঙ্গ বিদ্রুপ
b উপখ্যান
c সংলাপ
d চরিত্র
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: A) ব্যঙ্গ বিদ্রুপ ১. কেন সঠিক: নাটক ও প্রহসনের মধ্যে মূল মৌলিক পার্থক্য হলো ব্যঙ্গ বিদ্রুপের মাত্রা ও উদ্দেশ্য। নাটক গম্ভীর বা লঘু যেকোনো রসের হতে পারে, যেখানে সমাজের গভীর জীবনচিত্র বা মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ফুটে ওঠে। পক্ষান্তরে প্রহসন হলো নাটকের একটি লঘু রূপ, যার প্রধান হাতিয়ার হলো সমাজের নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্র ব্যঙ্গ বিদ্রুপ ও হাস্যরস তৈরি করা। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: বাংলা সাহিত্যে প্রহসন মূলত নাটকেরই একটি উপশাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মাইকেল মধুসূদন দত্তের একেই কি বলে সভ্যতা এবং বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক প্রহসন হিসেবে পরিচিত। প্রহসনে সাধারণত গভীর ট্র্যাজেডি বা বেদনার স্থান থাকে না, বরং হাস্যরসের মাধ্যমে সমাজের ত্রুটিগুলো শোধরানোর এক ধরনের তাগিদ থাকে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: মাইকেল মধুসূদন দত্তের একেই কি বলে সভ্যতা। ব্যাখ্যা: এই প্রহসনে তৎকালীন সমাজের এক শ্রেণির ইংরেজি শিক্ষিত যুবকদের মদ্যপান ও নৈতিক অবক্ষয়কে তীব্র ব্যঙ্গ বিদ্রুপের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উদাহরণ ২: দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী। ব্যাখ্যা: এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা প্রহসন, যেখানে সমাজের ভণ্ডামি এবং নেশার করাল গ্রাসে ধ্বংস হওয়া যুবসমাজকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) ব্যঙ্গ বিদ্রুপ — এটি সঠিক কারণ প্রহসনে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ প্রধান উপাদান হলেও সাধারণ নাটকে তা থাকে না। B) উপখ্যান — নাটক এবং প্রহসন উভয় ক্ষেত্রেই উপখ্যান বা কাহিনি থাকতে পারে, তাই এটি পার্থক্যের মূল ভিত্তি নয়। C) সংলাপ — নাটক এবং প্রহসন উভয় রূপেই সংলাপ বা কথপোকথন অপরিহার্য উপাদান, তাই এটি পার্থক্য নির্দেশ করে না। D) চরিত্র — নাটক ও প্রহসন উভয় বিভাগেই বিভিন্ন ধরনের চরিত্র চিত্রণ করা হয়, তাই চরিত্রের উপস্থিতি দিয়ে এদের পার্থক্য করা যায় না। ৫ মনে রাখার টিপস: নাটক হলো জীবনের গম্ভীর রূপ আর প্রহসন হলো জীবনের লঘু বা হাসিখুশি রূপ, যেখানে প্রধান উদ্দেশ্য থাকে সমাজের ত্রুটি নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: বাংলা সাহিত্যে প্রহসনের জনক বলা হয় মাইকেল মধুসূদন দত্তকে এবং সামাজিক প্রহসন রচনায় দীনবন্ধু মিত্রের অবদান সবচেয়ে বেশি। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রহসনগুলোর নাম ও রচয়িতা সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0