প্রশ্নের বর্ণনা

a সমুদ্র
b জলধারণ করে এমন
c কলসী
d জলাশয়
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: A) সমুদ্র ১. কেন সঠিক: - ‘জলধি’ একটি যোগরূঢ় শব্দ কারণ এর সমাসবদ্ধ বা প্রত্যয়গত অর্থ সরাসরি না বুঝিয়ে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে। - যোগরূঢ় শব্দের ক্ষেত্রে শব্দটির সাধারণ বা ব্যুৎপত্তিগত অর্থের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট ঐতিহ্যবাহী বা প্রথাগত অর্থ নির্ধারিত হয়ে যায়। ২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা: - যে সব শব্দ সমাস বা প্রত্যয়ের সাহায্যে গঠিত হয়ে কোনো সাধারণ অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোকে যোগরূঢ় শব্দ বলে। - শব্দের সাধারণ গঠন বা ব্যুৎপত্তিগত অর্থের চেয়ে প্রচলিত ও রূঢ় অর্থই এখানে প্রধান হয়ে ওঠে এবং এটি শব্দের শ্রেণিবিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: পঙ্কজ ব্যাখ্যা: পঙ্কে জন্মে যা (পঙ্ক + জ), এই সাধারণ অর্থে শাপলা, সৈবাল বা পঙ্কের অনেক কিছু বোঝাতে পারে। কিন্তু যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে এটি নির্দিষ্ট করে কেবল পদ্মফুলকে বোঝায়। উদাহরণ ২: রাজহাঁস ব্যাখ্যা: রাজার যে হাঁস (রাজা + হাঁস), এই সাধারণ অর্থের বাইরে যোগরূঢ় নিয়মে এটি এক বিশেষ প্রজাতির বড় ও সুন্দর সাদা হাঁসকে নির্দেশ করে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) সমুদ্র — এটি সঠিক কারণ ‘জলধি’ শব্দের যৌগিক অর্থ জল ধারণ করে এমন হলেও যোগরূঢ় রীতিতে এটি সুনির্দিষ্টভাবে সমুদ্রকে বোঝায়। B) জলধারণ করে এমন — এটি শব্দটির মূল ব্যুৎপত্তিগত বা যৌগিক অর্থ, কিন্তু যোগরূঢ় শব্দের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ অর্থই প্রাধান্য পায়। C) কলসী — এটি জল ধারণ করার পাত্র অর্থে ব্যবহার করা যায়, তবে ব্যাকরণগত নিয়মে ‘জলধি’ শব্দের যোগরূঢ় অর্থ কলসী নয়। D) জলাশয় — এটি জল ধারণ করার যেকোনো স্থানকে বোঝাতে পারে, কিন্তু ‘জলধি’ বিশেষ অর্থে কেবল সমুদ্রকেই নির্দেশ করে। ৫ মনে রাখার টিপস: - যোগরূঢ় শব্দ চেনার সহজ উপায় হলো মনে রাখা যে এগুলোতে সমাসের নিয়ম থাকলেও অর্থ হয় রূঢ় বা নির্দিষ্ট। - পঙ্কজ, রাজহাঁস এবং জলধি—এই তিনটি শব্দ যোগরূঢ় শব্দের সবচেয়ে প্রচলিত উদাহরণ, যা প্রায়ই পরীক্ষায় আসে। ৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শব্দের গঠন ও শ্রেণিবিভাগ থেকে প্রায়ই যোগরূঢ় শব্দ শনাক্ত করতে দেওয়া হয়। - যৌগিক, রূঢ় এবং যোগরূঢ় শব্দের সংজ্ঞাগত পার্থক্য ভালোভাবে আয়ত্ত করলে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর সহজেই দেওয়া সম্ভব।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0