প্রশ্নের বর্ণনা

a ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দীকে
b চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীকে
c পঞ্চদশ শতাব্দীকে
d ত্রয়োদশ শতাব্দীকে
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীকে ১. কেন সঠিক: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের সূচনা পর্বকে প্রাক চৈতন্যযুগ বলা হয় কারণ শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের আগের সময়টিকে নির্দেশ করতে এই টার্ম ব্যবহার করা হয়। চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে চৈতন্যদেবের জন্মেরও আগে বাংলা সাহিত্য রচিত হতে শুরু করে এবং এই সময়েই শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য রচিত হয়। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: শ্রীচৈতন্যদেব জন্মগ্রহণ করেন চৌদ্দশো পঁচাশি সালে এবং তার আন্দোলনের ফলে বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব পদাবলীর এক বিশাল জোয়ার সৃষ্টি হয়। চৈতন্যপূর্ববর্তী এই যুগে অর্থাৎ চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে মূলত লোকাচার, পুরাণ অনুবাদ এবং শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মতো লৌকিক ও মননশীল সাহিত্য ধারা বিকশিত হয়েছিল। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য। ব্যাখ্যা: এটি প্রাক চৈতন্যযুগের তথা চৈতন্যপূর্ববর্তী সময়ের অন্যতম প্রধান ও একমাত্র নিদর্শন বলে বিবেচিত হয়। উদাহরণ ২: মালাধর বসু রচিত শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য। ব্যাখ্যা: এটি পঞ্চদশ শতাব্দীতে রচিত এবং প্রাক চৈতন্যযুগের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাব্য যা ভাগবত পুরাণের বাংলা অনুবাদ। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দীকে — এই সময়কালটি মূলত বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বা তুর্কী আক্রমণের পরের সময়কে নির্দেশ করে। B) চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীকে — এই অপশনটি সঠিক কারণ এই সময়টি শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মের আগের সময়কালকে পূর্ণভাবে কভার করে। C) পঞ্চদশ শতাব্দীকে — এটি সঠিক তবে শুধু পঞ্চদশ শতাব্দী ধরলে চতুর্দশ শতাব্দীর সাহিত্য ধারা বাদ পড়ে যায়, তাই এটি অসম্পূর্ণ। D) ত্রয়োদশ শতাব্দীকে — এই শতাব্দীটি বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের অন্তর্ভুক্ত এবং এ সময়ে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক নিদর্শন পাওয়া যায়নি। ৫. মনে রাখার টিপস: প্রাক চৈতন্যযুগ মানে শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের আগের সময় আর এটি চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীজুড়ে বিস্তৃত ছিল। চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দী মনে রাখলে প্রাক চৈতন্যযুগের সঠিক সময়কাল খুব সহজেই মনে রাখা সম্ভব হয়। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের সময়কাল এবং বিভিন্ন ভাগের নাম যেমন অন্ধকার যুগ ও প্রাক চৈতন্যযুগ প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে। এই ধরনের প্রশ্ন সমাধানের জন্য শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের সাল এবং মধ্যযুগের প্রথম দিকের সাহিত্যকর্মের সময়কাল ভালোভাবে মুখস্থ রাখতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0