প্রশ্নের বর্ণনা

a অনুবাদক
b লিপিকার
c লেখক
d নকলনবিশ
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) লিপিকার ১. কেন সঠিক: প্রাচীনকালে যখন মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কৃত হয়নি, তখন মূল গ্রন্থ বা পুথি হাত দিয়ে লিখে সংরক্ষণ করতে হতো। যারা এই পান্ডুলিপিগুলো মূল গ্রন্থ থেকে অবিকল লিবিদ্ধ করতেন, তাদের ঐতিহ্যগতভাবে লিপিকার বলা হতো। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: এটি মূলত প্রাচীন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস এবং শব্দার্থ সম্পর্কিত একটি প্রশ্ন। মধ্যযুগের বা প্রাচীন যুগের বাংলা সাহিত্য যেমন চর্যাপদ বা মঙ্গলকাব্যগুলোর ক্ষেত্রে মূল লেখকের হাত থেকে তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম ছিলেন এই লিপিকারগণ। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: মধ্যযুগের পুঁথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথি আবিষ্কার করেছিলেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। এই ধরনের পুথিগুলো যারা হাতে লিখে সংরক্ষণ করতেন তারা লিপিকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ব্যাখ্যা: প্রাচীন ও মধ্যযুগের পুথি সংস্কৃতির সঙ্গে লিপিকার শব্দটি গভীরভাবে জড়িত। উদাহরণ ২: প্রাচীন মিশরে বা ভারতবর্ষে রাজদরবারে বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যারা রাজাদেশ বা ধর্মীয় গ্রন্থ অনুলিপি করতেন তাদের পেশাদার লিপিকার বলা হতো। ব্যাখ্যা: এটি লেখার পেশার ঐতিহাসিক রূপকে প্রকাশ করে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) অনুবাদক — অনুবাদক বলতে বোঝায় এক ভাষার গ্রন্থ বা রচনাকে অন্য ভাষায় রূপান্তরকারী ব্যক্তিকে। B) লিপিকার — মূল গ্রন্থ থেকে প্রাচীন পান্ডুলিপি যারা হাতে লিখে লিবিদ্ধ করতেন তাদের নির্দিষ্ট পরিভাষা এটি। C) লেখক — লেখক হলেন কোনো মৌলিক গ্রন্থ বা সাহিত্যের স্রষ্টা, যিনি নিজে নতুন রচনা তৈরি করেন। D) নকলনবিশ — নকলনবিশ বলতে সাধারণত দলিলপত্র বা অফিসিয়াল কাগজপত্র অনুলিপি কারক বোঝায়, যা প্রাচীন পান্ডুলিপি লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রাচীন সাহিত্যের সঠিক পরিভাষা নয়। ৫. মনে রাখার টিপস: হাতে লিখে যারা পান্ডুলিপি তৈরি করতেন তাদের লিপি বা লেখার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে লিপিকার মনে রাখা যায়। লিপিকার শব্দের লিপি অংশটি লেখার সঙ্গে সম্পর্কিত। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শব্দার্থ এবং প্রাচীন সাহিত্য সংস্কৃতির পরিভাষা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। সাহিত্য ও ইতিহাস সংশ্লিষ্ট এমন পরিভাষাগুলোর সুনির্দিষ্ট অর্থ জেনে রাখা জরুরি।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0