প্রশ্নের বর্ণনা

a ভারতচন্দ্র রায়
b ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
c মধুসূদন দত্ত
d বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১. কেন সঠিক: যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলতে এমন একজন কবিকে বোঝানো হয় যিনি মধ্যযুগের বাংলা কবিতার শেষ ধারা এবং আধুনিক যুগের বাংলা কবিতার সূচনা কাল বা সন্ধিক্ষণে অবস্থান করেছেন। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত মধ্যযুগের শেষ দিকের পয়ার ও ত্রপদী ছন্দের ব্যবহার অব্যাহত রেখেও আধুনিক যুগের সচেতনতা, স্বদেশপ্রেম এবং সমাজসংস্কারের বীজ রোপণ করেছিলেন। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের একজন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক যিনি ১৮১২ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর পত্রিকা সম্পাদনা করেন যা বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদিত পত্রিকা সংবাদ প্রভাকর। ব্যাখ্যা: এই পত্রিকাটি প্রথম দৈনিক বাংলা সংবাদপত্র হিসেবে আধুনিক বাংলা সাহিত্য গঠনে অনন্য ভূমিকা রেখেছিল। উদাহরণ ২: কবিওয়ালা ও শায়েরদের জীবন ও কবিতা নিয়ে তাঁর গবেষণা। ব্যাখ্যা: তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগের লুপ্তপ্রায় কবিওয়ালাদের জীবনী ও গান সংগ্রহ করে বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সেবা করেছিলেন। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) ভারতচন্দ্র রায় — তিনি মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ধারার সর্বশেষ এবং অত্যন্ত প্রতিভাবান কবি যাঁকে অন্নদামঙ্গল কাব্যের জন্য যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা চলে না। B) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত — এই অপশনটি সঠিক কারণ তিনি মধ্যযুগের অবসান ও আধুনিক যুগের সূচনার সংযোগস্থলে অবস্থান করে এই বিশেষ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। C) মধুসূদন দত্ত — তিনি আধুনিক যুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী ও মহাকবি, যিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করেন এবং তাঁকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় না। D) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় — তিনি আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক এবং বাংলা গদ্যসাহিত্যের প্রথম সার্থক স্রষ্টা, যিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি নন। ৫. মনে রাখার টিপস: মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সংযোগ সেতু হিসেবে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে মনে রাখতে তাঁর সম্পাদিত সংবাদ প্রভাকরের নাম মাথায় রাখতে পারো। তাঁর কবিতায় প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক চেতনার মিশ্রণ ছিল বলেই তাঁকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে যে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক সংবাদপত্রের সম্পাদক কে। এর উত্তরও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এবং সংবাদ প্রভাকর পত্রিকার সঙ্গে তাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0