প্রশ্নের বর্ণনা

a গো + অক্ষ = গবাক্ষ
b নর + ইন্দ্র = নরেন্দ্র
c ভো + উক = ভাবুক
d বন + ওষধি = বনৌষধি
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: A) গো + অক্ষ = গবাক্ষ ১. কেন সঠিক: নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি হলো সেই সন্ধি যা সাধারণ কোনো ব্যাকরণগত নিয়ম বা সূত্র মেনে চলে না এবং প্রাকৃত বা সংস্কৃত ভাষার প্রচলিত নিয়ম অনুসারে সাধিত হয়। গো শব্দের সঙ্গে অক্ষ শব্দের মিলনে স্বাভাবিক নিয়মে কোনো সন্ধি হওয়ার কথা ছিল না, কিন্তু বিশেষ নিয়মে এই শব্দে ব-ফলা যুক্ত হয়ে গবাক্ষ শব্দটি গঠিত হয়েছে। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: সন্ধি প্রধানত স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি এই তিন ভাগে বিভক্ত এবং এর সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণগত নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কিছু শব্দ ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম বা সূত্র মানতে চায় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলা হয়। গবাক্ষ শব্দের ক্ষেত্রে গো এবং অক্ষ মিলে গবাক্ষ হয়েছে যা ব্যঞ্জনসন্ধির নিপাতনে সিদ্ধ উদাহরণের অন্তর্ভুক্ত। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: পতি + অটকী = পত্নী ব্যাখ্যা: এটি একটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ যা কোনো সাধারণ নিয়মের আওতাভুক্ত নয়। উদাহরণ ২: আ + চর্য = আশ্চর্য ব্যাখ্যা: এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির একটি বহুল ব্যবহৃত ও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) গো + অক্ষ = গবাক্ষ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির নিয়ম মেনে গঠিত হয়েছে। B) নর + ইন্দ্র = নরেন্দ্র — এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়, এটি সাধারণ স্বরসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী গঠিত হয়েছে যেখানে অ এবং ই মিলে এ কার হয়েছে। C) ভো + উক = ভাবুক — এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়, এটি আদি স্বরবৃদ্ধির নিয়ম অনুযায়ী গাদি ও অয়াচাদি সন্ধির একটি উদাহরণ। D) বন + ওষধি = বনৌষধি — এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়, এটি সাধারণ স্বরসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী গঠিত যেখানে অ এবং ও মিলে ঔ কার হয়েছে। ৫ মনে রাখার টিপস: নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধিগুলো সহজে মনে রাখার জন্য শব্দগুলো বারবার পড়তে হবে এবং গবাক্ষ, আশ্চর্য, পত্নী, বৃষস্পতি এই শব্দগুলোকে আলাদা করে নোট করে রাখতে হবে। ব্যাকরণের সাধারণ সূত্র না মিললেই সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ হিসেবে ধরে নিতে হবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে তাই ব্যতিক্রমী শব্দগুলো যেমন গবাক্ষ, আশ্চর্য ও পরস্পর খুব ভালোভাবে মুখস্থ রাখতে হবে। সাধারণ সন্ধির নিয়ম এগুলোতে কাজ করে না বলে এগুলো সরাসরি মনে রাখা বাধ্যতামূলক।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0