প্রশ্নের বর্ণনা

a সরন্দীপ
b গৌড়
c রোসাঙ্গ
d বার্মা
0 12 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) রোসাঙ্গ ১. কেন সঠিক: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে বর্তমান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য বা আরাকান অঞ্চলকে রোসাঙ্গ নামে অভিহিত করা হতো। সেকালে এই অঞ্চলে বাংলা সাহিত্যের এক সমৃদ্ধ ধারা গড়ে উঠেছিল এবং রাজসভার কবিরা একে রোসাঙ্গ বা রোসাং বলে উল্লেখ করতেন। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: আরাকান রাজসভার উল্লেখযোগ্য কবি আলাওল ও দৌত কাজেম এই অঞ্চলেই তাদের সাহিত্যকর্ম পরিচালনা করেছিলেন। সে সময়কার মুসলিম শাসকরা বাংলা ভাষাকে পৃষ্ঠপোষকতা করায় আরাকান রাজসভা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন কবি আলাওল। ব্যাখ্যা: আরাকান রাজসভার সবচেয়ে খ্যাতনামা কবি আলাওল রোসাঙ্গ রাজসভার অমাত্য মাগন ঠাকুরের অনুরোধে এই মহাকাব্যের আদলে কাব্যটি রচনা করেন। উদাহরণ ২: সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান কাব্য লিখেছিলেন দৌলত কাজী। ব্যাখ্যা: আরাকান রাজসভার কায়স্থ মন্ত্রী আশরাফ খানের নির্দেশে দৌলত কাজী রোসাঙ্গ রাজসভায় বসে এই বিখ্যাত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান রচনা করেন। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) সরন্দীপ — এই নামে প্রাচীনকালে বর্তমান শ্রীলঙ্কা দ্বীপটিকে অভিহিত করা হতো, আরাকানকে নয়। B) গৌড় — এটি প্রাচীন বাংলার একটি ঐতিহাসিক জনপদের নাম, যার সঙ্গে আরাকান অঞ্চলের ভৌগোলিক মেলবন্ধন নেই। C) রোসাঙ্গ — এই অপশনটি সঠিক এবং মধ্যযুগের সাহিত্যে আরাকানের ঐতিহাসিক নাম হিসেবে পরিচিত। D) বার্মা — এটি মিয়ানমারের আধুনিক ও ঔপনিবেশিক নাম, যা প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে ব্যবহৃত হতো না। ৫ মনে রাখার টিপস: মধ্যযুগের আরাকান রাজসভায় বাঙালি কবিরা সাহিত্য চর্চা করতেন এবং এই অঞ্চলটি সে যুগে রোসাঙ্গ নামে পরিচিত ছিল। আলাওল ও দৌলত কাজেমের সাহিত্যকর্মের সঙ্গে রোসাঙ্গ নামটি বিশেষভাবে সম্পৃক্ত। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আরাকান রাজসভা ও তার কবিদের অবদান থেকে বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। কোন কবি কোন রাজসভায় ছিলেন এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক কারা ছিলেন, তা ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0