প্রশ্নের বর্ণনা

a লাচাড়ী ছন্দে রচিত পদ্য বা কবিতাবলী
b পদ্যকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা
c বাউল বা মরমী গীতি
d বৌদ্ধ ও বৈষ্ণবীয় ধর্মের গুঢ় বিষয়ের বিশেষ সৃষ্টি
0 11 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: D) বৌদ্ধ ও বৈষ্ণবীয় ধর্মের গুঢ় বিষয়ের বিশেষ সৃষ্টি ১. কেন সঠিক: - পদ বা পদাবলী বলতে মূলত বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে রচিত গান বা পদ্য আকারে রচিত ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ভাবসম্পন্ন সৃষ্টিকে বোঝায়। - চর্যাপদ থেকে শুরু করে বৈষ্ণব পদাবলীতে বৌদ্ধ ও বৈষ্ণব ধর্মের বিভিন্ন দার্শনিক ও গুঢ় তত্ত্ব রূপকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের প্রধান সাহিত্যরূপ হলো পদাবলী, যা মূলত গীতধর্মী রচনা। - বৌদ্ধ সহজিয়াগণ চর্যাপদের মাধ্যমে তাদের ধর্মীয় ও সাধনার গুঢ় তত্ত্ব প্রকাশ করেছেন এবং পরবর্তীকালে বৈষ্ণব কবিরা রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমের আড়ালে ভক্ত ও ভগবানের মিলনতত্ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চর্যাপদের পদসমূহ। ব্যাখ্যা: চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন যা মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের গুঢ় তত্ত্বসমৃদ্ধ গান বা পদ। উদাহরণ ২: বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসের বৈষ্ণব পদাবলী। ব্যাখ্যা: এসব পদে বৈষ্ণব ধর্মের রাধা-কৃষ্ণ তত্ত্ব এবং মানবীয় প্রেমের মোড়কে আধ্যাত্মিক ভাব প্রকাশ করা হয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) লাচাড়ী ছন্দে রচিত পদ্য বা কবিতাবলী — লাচাড়ী ছন্দ মঙ্গলকাব্যে ব্যবহৃত হয়, এটি পদাবলীর নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নয়। B) পদ্যকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা — দেবস্তুতিমূলক রচনা মঙ্গলকাব্য বা বন্দনাগীতি হতে পারে, কিন্তু পদাবলী কেবল দেবস্তুতি নয়, এটি মূলত গুঢ় সাধনা ও ভাবের গান। C) বাউল বা মরমী গীতি — বাউল গান লোকসাহিত্যের অংশ এবং আধুনিক বা মধ্যযুগের মরমী সাধনার ধারা, যা প্রাচীন বা মধ্যযুগীয় ধ্রুপদী পদাবলীর সমার্থক নয়। D) বৌদ্ধ ও বৈষ্ণবীয় ধর্মের গুঢ় বিষয়ের বিশেষ সৃষ্টি — এটি সঠিক, কারণ পদাবলী বলতে মূলত এই দুটি ধর্মের দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক সৃষ্টিকেই বোঝায়। ৫. মনে রাখার টিপস: - পদাবলী শব্দটি দেখলেই মাথায় রাখতে হবে এটি বৌদ্ধ সহজিয়া ও বৈষ্ণব ধর্মের গুঢ় তত্ত্ব বা আধ্যাত্মিক ভাবপ্রকাশক গান। - চর্যাপদ ও বৈষ্ণব পদাবলী হলো এর সবচেয়ে বড় দুটি ঐতিহাসিক উদাহরণ। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে পদাবলীর অবদান অপরিসীম কারণ এর মাধ্যমেই বাংলা গানের ধারা সমৃদ্ধ হয়েছে। - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পদাবলীর উৎস ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0