প্রশ্নের বর্ণনা

a বিবাহ করা
b পুত্র সন্তান লাভ করা
c সৌভাগ্যবান হওয়া
d মৃত্যুবরণ করা
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: D) মৃত্যুবরণ করা ১. কেন সঠিক: - 'পঞ্চত্বপ্রাপ্তি' একটি প্রখ্যাত বাগধারা, যার শাব্দিক অর্থ হলো পঞ্চভূতে বিলীন হওয়া এবং ভাবার্থ হলো মৃত্যুবরণ করা। - হিন্দু দর্শন অনুযায়ী মানবদেহ ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুত ও ব্যোম নামক পঞ্চভূত বা পাঁচটি উপাদানে গঠিত, যা মৃত্যুর পর প্রকৃতির মাঝে মিলিয়ে যায়। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত বাগধারা বা ইডিয়ম, যা বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে। - এই ধরনের বাগধারাগুলো সাধারণ অর্থের বাইরে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট রূপক অর্থ বা ভাব প্রকাশ করে থাকে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: বৃদ্ধ লোকটি অবশেষে দীর্ঘকাল অসুস্থ থাকার পর পঞ্চত্বপ্রাপ্তিলেন। ব্যাখ্যা: এখানে 'পঞ্চত্বপ্রাপ্তিলেন' শব্দটি মানুষের মৃত্যুর ঘটনা বোঝাতে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। উদাহরণ ২: আমাদের এলাকার প্রবীণ শিক্ষক গতকাল রাতে হঠাৎ করে পঞ্চত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। ব্যাখ্যা: এই বাক্যে কোনো ব্যক্তির চিরতরে চলে যাওয়া বা মৃত্যুর সংবাদ দিতে এই বাগধারাটি প্রয়োগ করা হয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) বিবাহ করা — এটি মানুষের জীবনের একটি সামাজিক ও আনন্দের ঘটনা বোঝায়, যা পঞ্চত্বপ্রাপ্তি বাগধারার মৃত্যুর ভাবের সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না। B) পুত্র সন্তান লাভ করা — এটি পরিবারে নতুন অতিথির আগমন বা সন্তান লাভ করার সুসংবাদ নির্দেশ করে, যা এই প্রশ্নটির সঠিক উত্তর নয়। C) সৌভাগ্যবান হওয়া — এটি মানুষের ভাগ্য ভালো বা অনুকূলে থাকা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, অথচ পঞ্চত্বপ্রাপ্তির সঙ্গে সৌভাগ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। D) মৃত্যুবরণ করা — এটি এই বাগধারার সঠিক রূপক অর্থ এবং প্রশ্নটির নির্দিষ্ট চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। ৫. মনে রাখার টিপস: - পঞ্চত্ব মানে পাঁচটি ভূত বা উপাদান, আর প্রাপ্তি মানে তাতে মিশে যাওয়া। মানুষ মারা গেলে শরীর পঞ্চভূতে বিলীন হয়, তাই পঞ্চত্বপ্রাপ্তি মানে মৃত্যু। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের পৌরাণিক ও দর্শনভিত্তিক বাগধারার অর্থ প্রায়ই আসে। - বাগধারা পড়ার সময় শাব্দিক অর্থের চেয়ে প্রমিত ভাবার্থের ওপর বেশি জোর দিতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0