প্রশ্নের বর্ণনা

a আক্ষরিক অনুবাদ
b ব্যাকরণিক অনুবাদ
c ভাবানুবাদ
d মৌলিক রচনা
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) ভাবানুবাদ ১. কেন সঠিক: মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্য বলতে মূলত মূল সংস্কৃত, ফার্সি বা আরবি গ্রন্থকে হুবহু বা আক্ষরিকভাবে বাংলায় রূপান্তর না করে বাঙালি পাঠকের রুচি, সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বাধীনভাবে রূপান্তর করাকে বোঝায়। এই প্রক্রিয়ায় মূল গল্পের মূল ভাব বা সারসংক্ষেপ অক্ষুণ্ণ রেখে কাব্যের সৌন্দর্য ও প্রাঞ্জলতা রক্ষা করা হতো, যা ভাবানুবাদ নামে পরিচিত। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য মূলত অনুবাদ ও পুনর্সৃজনমূলক ধারার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, যেখানে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বা মঙ্গলাকাব্য বাদ দিলে বাকি বিশাল অংশজুড়ে ছিল রামায়ন, মহাভারত ও পুরাণ ইত্যাদির অনুবাদ। কবীন্দ্র পরমেশ্বর বা শ্রীকর নন্দী মহাভারত অনুবাদ করার সময় এবং কৃত্তিবাস ওঝা রামায়ন অনুবাদের সময় সংস্কৃত মূলকে আক্ষরিকভাবে না উল্টিয়ে বাঙালি সমাজজীবনের আবহ ও রস ফুটিয়ে তুলেছিলেন। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: কৃত্তিবাসী রামায়ণ ব্যাখ্যা: কৃত্তিবাস ওঝা বাল্মীকি রামায়ণ হুবহু অনুবাদ না করে বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতির উপযোগী করে ভাবানুবাদ করেছিলেন, যা আজও বাঙালির ঘরে ঘরে সমাদৃত। উদাহরণ ২: কাশীদাসী মহাভারত ব্যাখ্যা: বেদব্যাসের মহাভারত কাশিরাম দাস আক্ষরিক অনুবাদ করেননি, বরং সহজ ও সাবলীল বাংলা পদ্যে ভাবানুবাদ করে সাধারণ মানুষের বোধগম্য করেছেন। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) আক্ষরিক অনুবাদ — শব্দে শব্দে বা সরাসরি অনুবাদ করাকে বোঝায়, যা মধ্যযুগের কবিরা অনুসরণ করেননি কারণ এতে কাব্যের রস নষ্ট হতো। B) ব্যাকরণিক অনুবাদ — ভাষার ব্যাকরণগত কাঠামোগত রূপান্তর বোঝায়, যা সাহিত্যিক অনুবাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। D) মৌলিক রচনা — মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্য পুরোপুরি মৌলিক ছিল না, কারণ এর উৎস ছিল সংস্কৃত, ফার্সি বা আরবি গ্রন্থ। ৫. মনে রাখার টিপস: মধ্যযুগের অনুবাদকরা মূলত মূল গল্পের ভাব ঠিক রেখে নিজেদের মতো করে সাজাতেন, তাই এটি সবসময় ভাবানুবাদ হিসেবে গণ্য হয়। সাহিত্য পরীক্ষায় মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের মূল বৈশিষ্ট্য জানতে চাইলে উত্তর সর্বদা ভাবানুবাদ বা স্বাধীন অনুবাদ হবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: মধ্যযুগের প্রথম অনুবাদ সাহিত্য হল শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য, যা রচনা করেন মালাধর বসু। অনুবাদ সাহিত্যে কৃত্তিবাস ওঝা এবং কাশিরাম দাসের অবদান সবচেয়ে বেশি।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0