প্রশ্নের বর্ণনা

a যৌ + অন
b যু + অন
c যৌব + ন
d যুব + অন
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: D) যুব + অন ১. কেন সঠিক: 'যৌবন' একটি তদ্ধিত প্রত্যয়যুক্ত শব্দ। শব্দের মূল বা প্রতিপাদিক 'যুব' শব্দের সঙ্গে ভাববাচক অর্থে 'অন' (অন্য অর্থে য্য প্রত্যয় যোগে আদি স্বরের পরিবর্তন ঘটে) প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'যৌবন' শব্দটি গঠিত হয়েছে। এখানে প্রত্যয় সাধনের নিয়মে শব্দের আদি স্বর 'উ' পরিবর্তিত হয়ে 'ঔ' রূপ লাভ করেছে, যাকে ব্যাকরণের ভাষায় গুণ বলা হয়। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: এটি বাংলা ব্যাকরণের প্রত্যয় অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সংস্কৃত নিয়ম অনুযায়ী যুব শব্দের সঙ্গে অন প্রত্যয় যুক্ত করার সময় আদি স্বর উ-কার ও-কার বা ঔ-কার এ রূপান্তরিত হয়। তদ্ধিত প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে শব্দের মূল রূপ ঠিক রেখে প্রত্যয় যোগ করার সময় স্বরবর্ণের যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে গুণ ও বৃদ্ধি বলা হয়। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: মধুর + য = মাধুৰ্য ব্যাখ্যা: মধুর শব্দের সঙ্গে ভাববাচক য প্রত্যয় যুক্ত হয়ে মাধুৰ্য শব্দটি গঠিত হয়েছে, যেখানে আদি স্বর অ আ-তে রূপান্তরিত হয়েছে। উদাহরণ ২: সুন্দর + য = সৌন্দর্য ব্যাখ্যা: সুন্দর শব্দের সঙ্গে ভাববাচক য প্রত্যয় যুক্ত হয়ে সৌন্দর্য গঠিত হয়েছে, যেখানে উ-কার ঔ-কার এ রূপান্তরিত হয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) যৌ + অন — যৌ কোনো মূল শব্দ বা প্রাতিপদিক নয়, তাই এই গঠন ব্যাকরণসম্মতভাবে সম্পূর্ণ ভুল। B) যু + অন — যু ধাতু বা শব্দমূল হলেও এর সঙ্গে সরাসরি অন প্রত্যয় যুক্ত হলে নিয়ম অনুযায়ী আদি স্বরের পরিবর্তন ও সঠিক রূপ গঠিত হয় না। C) যৌব্দ + ন — যৌব কোনো মৌলিক শব্দ নয় এবং ন প্রত্যয় সরাসরি যুক্ত হয়ে এই শব্দ গঠনের কোনো ব্যাকরণিক নিয়ম নেই। D) যুব + অন — এটি সঠিক অপশন কারণ যুব শব্দের সঙ্গে অন প্রত্যয় যুক্ত হয়েই মূলত যৌবন শব্দটি ব্যাকরণসিদ্ধভাবে তৈরি হয়। ৫. মনে রাখার টিপস: যৌবন শব্দটি দেখলে মনে রাখবে এটি যুব শব্দ থেকে এসেছে এবং আদি স্বর উ পরিবর্তিত হয়ে ঔ হয়েছে। তদ্ধিত প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে শব্দের শুরুতে উ বা উ-কার থাকলে তা সাধারণত ঔ-কার এ রূপান্তরিত হয়। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তদ্ধিত প্রত্যয় থেকে প্রায়ই শব্দ গঠন ও প্রত্যয় নির্ণয়ের প্রশ্ন আসে। শব্দের আদি স্বরের পরিবর্তন বা গুণ ও বৃদ্ধির নিয়মগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করলে এ ধরনের প্রশ্ন সহজে সমাধান করা যায়।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0