প্রশ্নের বর্ণনা

a নাটক
b উপন্যাস
c রোমান্টিক প্রণয়কাব্য
d রম্যরচনা
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) রোমান্টিক প্রণয়কাব্য ১. কেন সঠিক: ইউসুফ জুলেখা একটি রোমান্টিক প্রণয়কাব্য কারণ এতে ইউসুফ ও জুলেখার প্রেমের পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক কাহিনীর শৈল্পিক রূপায়ন ঘটেছে। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে অনার্য বা ফারসি কাব্যধারা থেকে অনুদিত এই কাব্যগুলো মূলত মানবপ্রেমের সাথে আধ্যাত্মিক প্রেমের এক অপূর্ব মিলন ঘটিয়েছে। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে প্রণয়োপাখ্যান ধারার অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় নিদর্শন হলো ইউসুফ জুলেখা কাব্য। শাহ মুহম্মদ সগীর সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে প্রথম বাংলায় এই কাব্য রচনা করেন। ফারসি সাহিত্যের ইউসুফ জুলেখা কাহিনীর অবলম্বনে এটি রচিত হলেও এর বাঙালি সংস্করণের নিজস্ব একটি সাহিত্যিক মূল্য রয়েছে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: লাইলি মজনু ব্যাখ্যা: দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত লাইলি মজনু আরেকটি বিখ্যাত মধ্যযুগীয় রোমান্টিক প্রণয়কাব্য। উদাহরণ ২: পদ্மாவতী ব্যাখ্যা: আলাওল রচিত পদ্மாவতী কাব্যটিও রোমান্টিক প্রণয়কাব্য ধারার একটি শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) নাটক — নাটক হলো দৃশ্যকাব্য যা অভিনয়ের উপযোগী করে রচিত হয় কিন্তু ইউসুফ জুলেখা অভিনয়ের জন্য রচিত কোনো নাটক নয়। B) উপন্যাস — উপন্যাস আধুনিক যুগের গদ্য সাহিত্যকর্ম এবং মধ্যযুগে উপন্যাসের কোনো অস্তিত্ব ছিল না তাই এটি উপন্যাস হতে পারে না। C) রোমান্টিক প্রণয়কাব্য — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি প্রেম ও অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে পদ্যে রচিত মধ্যযুগের একটি কাব্য। D) রম্যরচনা — রম্যরচনা মূলত হাস্যরসাত্মক ও হালকা মেজাজের গদ্য রচনা যা এই প্রণয়কাব্যের গম্ভীর ও প্রেমমূলক বিষয়বস্তুর বিপরীত। ৫. মনে রাখার টিপস: মধ্যযুগের যেসব কাব্যে ইউসুফ জুলেখা বা লাইলি মজনুর মতো প্রেমকাহিনী থাকে সেগুলো চোখ বন্ধ করে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। শাহ মুহম্মদ সগীর হলেন ইউসুফ জুলেখার প্রথম রচয়িতা এটি মনে রাখলে পরীক্ষার হলে দ্রুত উত্তর করা সহজ হয়। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: বাংলা সাহিত্যে প্রণয়োপাখ্যান ধারার সূচনা হয় মধ্যযুগে এবং এর বেশিরভাগ কাব্যই ফারসি সাহিত্য থেকে অনূদিত বা অনুপ্রাণিত। একই সাথে কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের নাম এবং তার পৃষ্ঠপোষক সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নাম বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0