প্রশ্নের বর্ণনা

a কোম্পানির শাসকদের ভয়ে
b সখের বসে
c সমাজ রীতিনীতিকে ব্যঙ্গ করার কারণে
d রসবোধ সৃষ্টির জন্য
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সমাজ রীতিনীতিকে ব্যঙ্গ করার কারণে ১. কেন সঠিক: প্যারীচাঁদ মিত্র তার বিখ্যাত উপন্যাস রচনার সময় তৎকালীন সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ভণ্ডামি তীব্রভাবে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে 'টেকচাঁদ ঠাকুর' ছদ্মনাম গ্রহণ করেছিলেন। ছদ্মনাম ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি সমাজের উচ্চবিত্তের ভণ্ড আচরণ ও ত্রুটিগুলো নির্ভয়ে ব্যঙ্গ করতে পেরেছিলেন। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: প্যারীচাঁদ মিত্র বাংলা উপন্যাসের জনক এবং বাংলা উপন্যাসের প্রথম সার্থক রূপকার হিসেবে বাংলা সাহিত্যে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তার রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস, যা ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি চলতি ভাষায় রচিত। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: আলালের ঘরের দুলাল ব্যাখ্যা: এই উপন্যাসে রামলাল ও মতিলালের চরিত্রের মাধ্যমে তৎকালীন বাবু সমাজের অবক্ষয় ও সমাজ রীতিনীতিকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। উদাহরণ ২: অভেদী ব্যাখ্যা: এটি প্যারীচাঁদ মিত্রের আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস, যেখানে আধ্যাত্মিকতা ও সমাজচিন্তার প্রকাশ ঘটেছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কোম্পানির শাসকদের ভয়ে — প্যারীচাঁদ মিত্র ইংরেজ শাসকদের ভয়ে নয়, বরং সমাজ সংস্কার ও তৎকালীন সমাজের কদর্য রূপ ব্যঙ্গ করতে ছদ্মনাম নেন। B) সখের বসে — এটি নিছক সখ ছিল না, বরং সাহিত্যিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছিল। D) রসবোধ সৃষ্টির জন্য — রসবোধ সৃষ্টি অন্যতম উদ্দেশ্য হলেও মূল কারণ ছিল সমাজ রীতিনীতিকে তীক্ষ্ণভাবে ব্যঙ্গ করা। ৫ মনে রাখার টিপস: প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম মনে রাখার সহজ উপায় হলো টেকচাঁদ ঠাকুর এবং তার উপন্যাসের নাম আলালের ঘরের দুলাল। সমাজকে ব্যঙ্গ করতে তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর নামে লিখেছিলেন। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: বাংলা উপন্যাসের বিকাশে প্যারীচাঁদ মিত্রের অবদান অনস্বীকার্য এবং তার ছদ্মনাম সংক্রান্ত প্রশ্ন বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের ভাষা প্রমিত চলিত ভাষার প্রথম সার্থক রূপ।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0