প্রশ্নের বর্ণনা

a তীব্র জ্বালা
b কাঠের পুতুল
c চির অশান্তি
d রাবণের চিতা
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: A) তীব্র জ্বালা ১. কেন সঠিক: - কুলকাঠের আগুন বাগধারাটির অর্থ তীব্র জ্বালা বা দীর্ঘস্থায়ী ও মর্মান্তিক কষ্ট। - কুল কাঠ সহজে নিভতে চায় না এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে ভেতরে ভেতরে পুড়তে থাকে, যার ফলে এর তাপ ও যন্ত্রণা অনেক বেশি হয়। ২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা: - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণে বাগধারা হলো এমন কিছু বিশেষ শব্দগুচ্ছ যা আভিধানিক অর্থ ছাপিয়ে একটি নির্দিষ্ট ও গভীর ভাব প্রকাশ করে। - এখানে কুল কাঠ পদের উপমা ব্যবহার করে মানুষের মনের গভীর যন্ত্রণা বা কষ্টের তীব্রতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: ছেলের শোকে মায়ের বুক যেন কুলকাঠের আগুন হয়ে পুড়ছে। ব্যাখ্যা: এখানে মায়ের অন্তরের অন্তিম ও তীব্র বেদনা বোঝাতে কুলকাঠের আগুন বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়েছে। উদাহরণ ২: মিথ্যা অপবাদের সেই তীব্র অপমান তার মনে কুলকাঠের আগুনের মতো জ্বলছিল। ব্যাখ্যা: এই বাক্যে মানুষের মনের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষোভ ও যন্ত্রণাকে বুঝাতে এই বাগধারাটি প্রয়োগ করা হয়েছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) তীব্র জ্বালা — সঠিক উত্তরের সঙ্গে মিলে যায় এবং বাগধারাটির প্রকৃত ভাবার্থ প্রকাশ করে। B) কাঠের পুতুল — এই শব্দটির দ্বারা মূলত নির্জীব বা ব্যক্তিত্বহীন কোনো মানুষকে বোঝায়। C) চির অশান্তি — এটি ভিন্ন একটি বাগধারা যেমন ভূষণ্ডীর কাক বা অশান্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। D) রাবণের চিতা — এই বাগধারাটির অর্থ চিরকালের অশান্তি বা যে আগুন কখনো নেভে না, তবে কুলকাঠের আগুনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো তীব্র জ্বালা ও ভেতরের তাপ। ৫ মনে রাখার টিপস: কুল কাঠ যেমন সহজে নেভে না এবং অনেকক্ষণ ধরে ভেতর ভেতর জ্বলে, তেমনি কোনো গভীর শোক বা কষ্ট যখন সহজে ভোলা যায় না, তাকে কুলকাঠের আগুন অর্থাৎ তীব্র জ্বালা বলা হয়। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারার অন্তর্নিহিত ভাবার্থ বোঝার জন্য শব্দের উৎস ও উপমার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। একই ধরনের অন্যান্য বাগধারা যেমন রাবণের চিতা বা তুষের আগুন এর সঙ্গে কুলকাঠের আগুনের সূক্ষ্ম পার্থক্য মনে রাখতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0