প্রশ্নের বর্ণনা

a বাহুল্য দোষে
b গুরুচণ্ডালী দোষে
c দুর্বোধ্যতা
d রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) দুর্বোধ্যতা ১. কেন সঠিক: - 'প্রপঞ্চ' শব্দের অর্থ মায়া, ছলনা, প্রবঞ্চনা বা জালিয়াতি। - 'প্রপঞ্চ করা' বলে কোনো স্বাভাবিক বা প্রমিত বাক্যরীতি বাংলা ভাষায় নেই। শব্দের এমন অপ্রচলিত বা ভুল প্রয়োগের কারণে বাক্যের অর্থ বুঝতে বাধা সৃষ্টি হয়, যা দুর্বোধ্যতা দোষ হিসেবে গণ্য হয়। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - বাংলা বাক্যে পদের অন্বয় বা অর্থসংগতি রক্ষা না করলে বাক্যটি দুর্বোধ্যতা দোষে দুষ্ট হয়। - শব্দের অনুপযুক্ত বা অপ্রচলিত ব্যবহারের ফলে শ্রোতা বা পাঠকের কাছে বাক্যের মূল বক্তব্য অস্পষ্ট বা অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: তার কথাগুলো আমার কাছে অস্ট্রোম্রোলীয় মনে হলো। ব্যাখ্যা: অস্ট্রোম্রোলীয় একটি ভাষাতাত্ত্বিক পরিভাষা যা সাধারণ বাক্যে অপ্রাসঙ্গিক ও দুর্বোধ্য। উদাহরণ ২: এই নিগূঢ় তাত্ত্বিক ভাষ্য বড়ই জটিল। ব্যাখ্যা: সাধারণ কথার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠিন ও অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহারের কারণে বাক্যটি দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) বাহুল্য দোষে — একই অর্থের শব্দ দুবার ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ হয়, এখানে সেটি ঘটেনি। B) গুরুচণ্ডালী দোষে — তৎসম ও তদ্ভব শব্দের অবিন্যস্ত মিলনে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে, যা এখানে প্রযোজ্য নয়। D) রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা — শব্দের স্বাভাবিক অর্থ প্রকাশে বাধা পেলে বা প্রচলিত রীতিবিরুদ্ধ হলে তাকে দুর্বোধ্যতা বলে, এটি অন্য বিষয়। ৫. মনে রাখার টিপস: - বাক্যে কোনো অপ্রচলিত বা ভুল শব্দ ব্যবহারের কারণে যদি অর্থ পরিষ্কার না হয়, তবে তা দুর্বোধ্যতা দোষ হিসেবে চিহ্নিত করবে। - প্রপঞ্চ শব্দের আসল অর্থ ছলনা বা মায়া, এটি ব্যাকরণগতভাবে ক্রিয়া হিসেবে সরাসরি ব্যবহৃত হয় না। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাক্যশুদ্ধি ও বাক্য পরিবর্তন থেকে প্রায়ই এ ধরনের প্রশ্ন আসে। - প্রমিত শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে বাক্যের ভাব স্পষ্ট রাখা ব্যাকরণগত শুদ্ধতার মূল শর্ত।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0