প্রশ্নের বর্ণনা

a যোগরূঢ়
b যৌগিক
c রূঢ়
d রূঢ়ি
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: A) যোগরূঢ় ১. কেন সঠিক: - যে সমাসবদ্ধ শব্দগুলোর প্রত্যয় বা সমাসের সাধারণ অর্থ না বুঝিয়ে কোনো বিশেষ অর্থ বোঝায় এবং তা ব্যুৎপত্তিগত অর্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, তাকে যোগরূঢ় শব্দ বলে। - এখানে মহাযাত্রা শব্দটির সাধারণ অর্থ বড় যাত্রা হলেও, এটি বিশেষ অর্থে মানুষের জীবনাবসান বা মৃত্যুকে নির্দেশ করে, যা যোগরূঢ় শব্দের সংজ্ঞা পূর্ণ করে। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - উৎস বা গঠনরীতির ওপর ভিত্তি করে বাংলা শব্দকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়: মৌলিক, সাধিত ও রূঢ়ি বা যোগরূঢ়। সমাসের সাহায্যে নিষ্পন্ন যে শব্দ সম্পূর্ণ নতুন কোনো অর্থ প্রকাশ করে, তাকে যোগরূঢ় শব্দ বলা হয়। - মহাযাত্রা শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো মহা যে যাত্রা, যা সমাসবদ্ধ হয়ে সাধারণ যাত্রার পরিবর্তে চূড়ান্ত যাত্রা বা মৃত্যুকে বোঝায়। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: পঙ্কজ ব্যাখ্যা: পঙ্কে জন্মে যা, তা পঙ্কজ। সাধারণ অর্থে পঙ্কে জন্মায় এমন যেকোনো কিছু বোঝালেও যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে এটি বিশেষভাবে পদ্মফুলকে বোঝায়। উদাহরণ ২: রাজপুত ব্যাখ্যা: রাজার পুত বা পুত্র। সাধারণ অর্থে রাজার পুত্রকে না বুঝিয়ে এটি বিশেষ একটি সম্প্রদায় বা জাতিকে বোঝায়। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) যোগরূঢ় — এই অপশনটি সঠিক কারণ মহাযাত্রা শব্দটির সমাস নিষ্পন্ন হয়ে বিশেষ অর্থ অর্থাৎ মৃত্যুকে প্রকাশ করেছে। B) যৌগিক — যেসব শব্দের উৎপত্তিমূলক অর্থ ও ব্যবহারেরিক অর্থ একই রকম হয়, তাদের যৌগিক শব্দ বলে, যা এখানে প্রযোজ্য নয়। C) রূঢ় — যেসব শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাদের রূঢ় শব্দ বলে। D) রূঢ়ি — রূঢ় শব্দের অপর নাম রূঢ়ি শব্দ, যা সমাসের মাধ্যমে গঠিত হয় না বরং প্রত্যয় বা উপসর্গের সাহায্যে গঠিত হয়। ৫. মনে রাখার টিপস: - সমাসের প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়ে যদি কোনো শব্দ তার স্বাভাবিক অর্থের বাইরে গিয়ে কোনো নির্দিষ্ট বা বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তবে চোখ বন্ধ করে তাকে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে চিহ্নিত করবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে সাধারণত পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা এবং জলধি শব্দগুলো বেশি আসে। - যৌগিক এবং যোগরূঢ় শব্দের মধ্যে পার্থক্যের মূল ভিত্তি হলো বিশেষ অর্থের উপস্থিতি।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0