প্রশ্নের বর্ণনা

a মৌলিক শব্দ
b সমাস সাধিত শব্দ
c প্রত্যয় সাদিত শব্দ
d রূঢ়ি
0 13 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: D) রূঢ়ি ১. কেন সঠিক: - সমাসনিষ্পন্ন শব্দ সমস্যমান পদের অনুগামী না হয়ে যখন সম্পূর্ণ ভিন্ন বা বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে ব্যাকরণের ভাষায় রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ বলা হয়। - এটি মূলত শব্দের অর্থ পরিবর্তনের একটি ধারা, যেখানে বুৎপত্তিগত বা গঠণগত অর্থের চেয়ে প্রচলিত ও প্রবহমান অর্থটি প্রধান হয়ে ওঠে। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - শব্দার্থের নীতি অনুযায়ী যে সকল শব্দ প্রত্যয় বা সমাসের সাহায্যে গঠিত হয়ে মূলত প্রকৃতির বা অবয়বের অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ জ্ঞাপন করে, সেগুলোকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। - এটি শব্দের উৎস ও অর্থের পরিবর্তনের একটি বিশেষ শ্রেণিবিভাগ, যা মূলত শব্দার্থের রূপান্তর বা অর্থসংকোচ-সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: হস্তী ব্যাখ্যা: হস্ত বা হাত আছে যার, এর সমাসনিষ্পন্ন বা শাব্দিক অর্থ হাতবিশিষ্ট প্রাণী হলেও রূঢ় অর্থে এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট পশুকে অর্থাৎ হাতিকে বোঝায়। উদাহরণ ২: গবেষণা ব্যাখ্যা: গূঢ় অর্থে গা বা গরু অন্বেষণ করা বোঝানো হলেও, বর্তমানে রূঢ় বা প্রচলিত অর্থে এটি কোনো বিষয়ে বিস্তারিত ও তাত্ত্বিক অনুসন্ধান বা স্টাডি বোঝায়। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) মৌলিক শব্দ — যে শব্দগুলোকে ভেঙে বা বিশ্লেষণ করা যায় না এবং যার সঙ্গে কোনো প্রত্যয় বা উপসর্গ যুক্ত থাকে না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে, যা প্রশ্নের সমাসনিষ্পন্ন শব্দের সঙ্গে মেলে না। B) সমাস সাধিত শব্দ — সমাসের মাধ্যমে গঠিত শব্দকে সমাস সাধিত শব্দ বলা হয়, তবে এটি শুধু সমাসবদ্ধ পদের সাধারণ পরিচয়, বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশের শর্ত পূরণকারী রূঢ়ি শব্দের বিশেষ catégories নয়। C) প্রত্যয় সাদিত শব্দ — যে শব্দগুলো প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় সাধিত শব্দ বলে, যা এখানে সমাসনিষ্পন্ন ও বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশের সংজ্ঞার সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। D) রূঢ়ি — এই অপশনটি সম্পূর্ণ সঠিক কারণ এটি সমাসের প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েও নিজস্ব সাধারণ অর্থ বজায় না রেখে সম্পূর্ণ আলাদা ও বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। ৫. মনে রাখার টিপস: - রূঢ়ি শব্দ মানেই হলো শাব্দিক অর্থ বর্জন করে প্রচলিত বিশেষ অর্থ গ্রহণ করা। - সমাসের নিয়মে গঠিত হয়েও যে শব্দগুলো অন্য অর্থ দেয়, চোখ বন্ধ করে সেগুলোকে রূঢ়ি শব্দ হিসেবে চিহ্নিত করবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রূঢ়ি শব্দ এবং যোগরূঢ় শব্দের পার্থক্য প্রায়ই কনফিউশন তৈরি করে। - যোগরূঢ় শব্দ বহুব্রীহি সমাসের মাধ্যমে গঠিত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, আর রূঢ়ি শব্দ সাধারণত যেকোনো সমাস বা প্রত্যয়নিষ্পন্ন হয়ে বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0