প্রশ্নের বর্ণনা

a ষড় + ঋতু
b ষড়্ + ঋতু
c ষট + ঋতু
d ষট্ + ঋতু
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: D) ষট্ + ঋতু ১. কেন সঠিক: - ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মানুসারে প্রথম পদের অন্তে অবস্থিত বর্গের প্রথম ধ্বনি এবং দ্বিতীয় পদের শুরুতে স্বরধ্বনি থাকলে প্রথম ধ্বনিটি স্বীয় বর্গের তৃতীয় ধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়। - এখানে প্রথম পদের অন্তে 'ট' এবং দ্বিতীয় পদের শুরুতে স্বরধ্বনি 'ঋ' থাকায় 'ট' পরিবর্তিত হয়ে স্বীয় বর্গের তৃতীয় ধ্বনি 'ড' বা তৎস্থানীয় নিয়মে 'ড়' এ পরিণত হয়ে 'ষড়ঋতু' গঠিত হয়েছে। ২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা: - ব্যঞ্জনসন্ধির একটি বিশেষ নিয়ম হলো প্রথম পদের শেষে বর্গের প্রথম ধ্বনি ক, চ, ট, ত, প থাকলে এবং তার পরে স্বরধ্বনি, বর্গের তৃতীয় বা চতুর্থ ধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব থাকলে প্রথম ধ্বনিটি তার নিজ বর্গের তৃতীয় ধ্বনিতে পরিণত হয়। - এই নিয়মে ট-কার বা ত-কারের স্থানে ড-কার বা দ-কার হয়, যেমন ষট্ + ঋতু সমান ষড়ঋতু এবং জগৎ + ঈশ সমান জগদীশ। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: ষট্ + আনন সমান ষড়ানন ব্যাখ্যা: এই শব্দটিতেও একই ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম প্রযোজ্য হয়েছে যেখানে ষট্ পদের ট-কার পরবর্তী স্বরধ্বনির প্রভাবে ষড় এ রূপান্তরিত হয়েছে। উদাহরণ ২: তৎ + ইব সমান তদ্বিভ ব্যাখ্যা: এখানে ত-কার পরবর্তী স্বরধ্বনির প্রভাবে দ-কারে রূপান্তরিত হয়ে সন্ধি সাধিত হয়েছে যা একই ব্যাকরণিক সূত্রের অন্তর্ভুক্ত। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) ষড় + ঋতু — প্রথম পদে হসন্ত বা খণ্ডত্ব না থাকায় এটি ব্যাকরণগতভাবে প্রমিত ও শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ নয়। B) ষড়্ + ঋতু — বাংলায় 'ড়' বর্ণটি সাধারণত পদের মাঝে বা অন্তে ব্যবহৃত হয়, সন্ধি বিচ্ছেদের সময় মূল আদি বর্ণ হিসেবে 'ট' ব্যবহার করতে হয়। C) ষট + ঋতু — ষট এর নিচে হসন্ত বা খণ্ডত্ব চিহ্ন না থাকায় মূল ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্ণ রূপ প্রকাশ পায় যা সন্ধির নিয়মের পরিপন্থী। D) ষট্ + ঋতু — এটি সঠিক অপশন কারণ এতে সঠিক প্রমিত বানান ও ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম যথাযথভাবে অনুসৃত হয়েছে। ৫. মনে রাখার টিপস: - ঋতু শব্দটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময় সবসময় খণ্ডত্ব বা হসন্তযুক্ত ট (ট্) ব্যবহার করতে হবে। - ষট্ এর ট্ এবং ঋতুর ঋ মিলে ড (ড়) হয়ে ষড়ঋতু গঠিত হয় এই সূত্রটি মনে রাখবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের ব্যঞ্জনসন্ধি প্রায়ই আসে। - সন্ধি বিচ্ছেদের সময় পদের নিচে হসন্ত বা খণ্ডত্বের ব্যবহার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ করতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0