প্রশ্নের বর্ণনা

a তুর্কী শাসকবর্গ
b মুঘল সম্রাটগণ
c পাঠান সুলতানগণ
d সংস্কৃত পণ্ডিতগণ
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) পাঠান সুলতানগণ ১. কেন সঠিক: মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ ও প্রসারে পাঠান সুলতানগণ বা মুসলিম শাসকেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। বাংলা ভাষা সে সময় অবহেলিত থাকলেও সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতায় তা রাজসভার স্বীকৃতি লাভ করে এবং নতুন প্রাণরস পায়। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য মূলত সুলতানি ও হোসেন শাহী আমলেই বিশেষভাবে পুষ্ট হয়েছিল। গৌড় ও সোনারগাঁওয়ের সুলতানদের উৎসাহে অনেক সংস্কৃত ও ফার্সি গ্রন্থ বাংলায় অনূদিত হয় এবং মৌলিক সাহিত্য রচিত হয়। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য ব্যাখ্যা: বড়ু চণ্ডীদাস রচিত এই কাব্য মধ্যযুগের শুরুর দিকের নিদর্শন যা সুলতানি আমলের প্রভাবে রচিত হয়েছে। উদাহরণ ২: মহাভারতের বাংলা অনুবাদ ব্যাখ্যা: সুলতান কায়কাউস বা নুসরত শাহের মতো শাসকদের নির্দেশে কাশীরাম দাস ও কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারত বাংলায় অনুবাদ করেন। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) তুর্কী শাসকবর্গ — তুর্কী শাসকেরা বাংলা জয় করলেও সাহিত্যচর্চায় সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করেছিলেন পরবর্তী পাঠান সুলতানগণ। B) মুঘল সম্রাটগণ — মুঘলরা বাংলা জয় করার আগেই মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মূল ভিত রচিত হয়েছিল, তাই তারা অগ্রণী নন। D) সংস্কৃত পণ্ডিতগণ — সংস্কৃত পণ্ডিতেরা বাংলা ভাষাকে অবজ্ঞা করতেন এবং রাজভাষাও সংস্কৃতে সীমাবদ্ধ ছিল। ৫. মনে রাখার টিপস: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মূল পৃষ্ঠপোষক ছিলেন সুলতানগণ। সুলতান মানেই পাঠান সুলতানগণ মনে রাখবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: বাংলা সাহিত্যের প্রথম অনুবাদ সাহিত্য শুরু হয় সুলতানি আমলে। সুলতান নুসরত শাহকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক বলা হয়।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0