প্রশ্নের বর্ণনা

a পাঠক
b লেখক
c জলদ
d সন্দেশ
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) জলদ ১. কেন সঠিক: - গঠনগত দিক থেকে বাংলা শব্দের শ্রেণিবিভাগে যোগরূঢ় শব্দ হলো সেই সমস্ত শব্দ, যা সমাসনিষ্পন্ন হয়ে কোনো সমসমান পদের অর্থ প্রকাশ না করে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে। - এখানে জলদ শব্দটি জল + দা (দেওয়া) অর্থে গঠিত হলেও, এটি সাধারণ অর্থে জলদানকারী যেকোনো কিছু না বুঝিয়ে নির্দিষ্টভাবে মেঘকে বোঝায়। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - উৎপত্তি বা গঠন অনুসারে বাংলা শব্দকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়, যেমন মৌলিক, সাধিত এবং যোগরূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ। - সমাসের সাহায্যে গঠিত যে শব্দগুলো সমাসবদ্ধ পদের অর্থের দিকে না তাকিয়ে প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের বা প্রচলিত রূঢ় অর্থের অনুসারী হয়, তাকে যোগরূঢ় শব্দ বলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: পঙ্কজ ব্যাখ্যা: পঙ্কে জন্মে যা, অর্থাৎ পঙ্কে জন্মে এমন সবকিছু না বুঝিয়ে এটি নির্দিষ্টভাবে পদ্মফুলকে বোঝায়। উদাহরণ ২: রাজপুত ব্যাখ্যা: রাজার পুত্র অর্থ প্রকাশ না করে এটি একটি নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়কে বোঝায়। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) পাঠক — এটি একটি সাধিত শব্দ যা পঠ + অক প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়েছে এবং এটি প্রকৃতি অনুযায়ী পাঠকারী সাধারণ অর্থ প্রকাশ করে। B) লেখক — এটি সাধিত শব্দ যা লিখ + অক প্রত্যয় যোগে গঠিত এবং এর সাধারণ অর্থ যিনি লেখেন। D) সন্দেশ — এটি একটি রূঢ় শব্দ, যা সমাসের সাহায্যে গঠিত না হয়ে মূল অর্থ থেকে দূরে সরে গিয়ে একটি বিশেষ খাবার অর্থ প্রকাশ করেছে। ৫. মনে রাখার টিপস: - যোগরূঢ় শব্দ চেনার সহজ উপায় হলো এটি দেখতে বহুব্রীহি বা অন্য কোনো সমাসের মতো হলেও এর অর্থ সম্পূর্ণ নির্ধারিত বা নির্দিষ্ট হয়ে যায়। - যেমন জলদ বললেই চোখের সামনে মেঘ ভেসে ওঠে, সাধারণ কোনো জলপ্রদাতা নয়। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে সাধারণত জলদ, পঙ্কজ, রাজপুত এবং মহাযাত্রা শব্দগুলো বেশি আসে। - রূঢ়ি শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দের মধ্যে পার্থক্য হলো রূঢ়ি শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগে গঠিত হয় আর যোগরূঢ় শব্দ সমাসের মাধ্যমে গঠিত হয়।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0