প্রশ্নের বর্ণনা

a দ্বিজ বংশী
b বংশী দাস
c বংশীধর
d সবগুলোই
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: D) সবগুলোই ১. কেন সঠিক: - মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের কবিরা কাব্যের বিভিন্ন স্থানে আত্মপরিচয়মূলক ভণিতা ব্যবহার করতেন এবং কবি দ্বিজ বংশীদাস তাঁর মনসামঙ্গল কাব্যে নিজের নামের ক্ষেত্রে একাধিক রূপ যেমন দ্বিজ বংশী, বংশী দাস ও বংশীধর ব্যবহার করেছেন। - ভণিতা হলো কাব্যের শেষ চরণে কবির নিজের নাম বা আত্মপরিচয় প্রকাশের ঐতিহ্যগত মাধ্যম, যা মধ্যযুগের প্রায় সব কাব্যেই দেখা যায়। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান কবি হলেন দ্বিজ বংশীদাস, যিনি ষোড়শ শতাব্দীর শেষের দিকে বা সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে পূর্ববঙ্গের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার পটুলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। - তাঁর রচিত মনসামঙ্গল কাব্যটি পদ্মপুরাণ নামেও সমধিক পরিচিত এবং তাঁর এই কাব্যে বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সমাজচিত্রের অপূর্ব প্রকাশ ঘটেছে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: কবি কৃত্তিবাস ওঝা তাঁর রামায়ণ অনুবাদে নিজের নাম ভণিতায় ব্যবহার করেছেন। ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের কবিরা কাব্যের প্রামাণ্যতা ও স্থায়িত্বের জন্য ভণিতায় নিজেদের নাম যুক্ত করতেন। উদাহরণ ২: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর অন্নদামঙ্গল কাব্যের ভণিতায় নিজ নাম এবং পৃষ্ঠপোষকের নাম উল্লেখ করেছেন। ব্যাখ্যা: রাজদরবারের কবিরা পৃষ্ঠপোষককে খুশি করতে এবং নিজের কর্তৃত্ব জাহির করতে ভণিতায় বিভিন্ন উপাধি ব্যবহার করতেন। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) দ্বিজ বংশী — এটি সঠিক তথ্য হলেও কেবল একটি নাম নির্দেশ করে, তাই একা সম্পূর্ণ উত্তর হতে পারে না কারণ কবি অন্য নামও ব্যবহার করেছেন। B) বংশী দাস — এটিও সঠিক তথ্য কিন্তু একা যথেষ্ট নয় কারণ ভণিতায় তিনি অন্যান্য নামও ব্যবহার করেছেন। C) বংশীধর — এটিও সঠিক তথ্য প্রদান করে তবে একা অপশনটি সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করে না যেহেতু বাকি নামগুলোও ভণিতায় পাওয়া যায়। D) সবগুলোই — এটি সঠিক কারণ কবি দ্বিজ বংশীদাস তাঁর কাব্যের বিভিন্ন স্থানে এই সবগুলো নামই ভণিতায় ব্যবহার করেছেন। ৫. মনে রাখার টিপস: - দ্বিজ বংশীদাসের নামের বৈচিত্র্য মনে রাখার সহজ উপায় হলো বংশী নামের আগে দ্বিজ উপাধি এবং পরে দাস বা ধর পদবি যুক্ত করে তিনি ভণিতা লিখেছেন। - মধ্যযুগের কবিরা নামের শেষে দাস বা উপাধি ব্যবহার করতেন, যা তাঁদের কাব্যের প্রামাণিকতা প্রমাণ করে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা চন্দ্রাবতী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নারী কবি যিনি রামায়ন রচনা করেছিলেন। - মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মপুরাণ এবং এর প্রধান চরিত্র হলো বেহুলা ও লখিন্দর।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0